ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শুরু হচ্ছে। প্রথম বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নতুন সংসদের কার্যক্রম। অধিবেশনের শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং সেগুলো অনুমোদন, সংশোধন বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন এবং বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উদ্বোধনী ভাষণের মধ্য দিয়ে সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে প্রথম দিনেই সংসদ উত্তপ্ত হওয়ার আভাস দিয়েছে বিরোধী দলগুলো
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঘোষিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিও সংসদে বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। স্বৈরতন্ত্র রোধ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের দাবিতে গঠিত সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের প্রশ্নও নতুন সংসদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংসদে ‘জুলাই সনদ’ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে মতপার্থক্যও দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে পৃথক শপথ নিলেও বিএনপির সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
এদিকে ডেপুটি স্পিকারের পদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে প্রস্তাব দেওয়া হলেও দলটি জানিয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা এ পদ গ্রহণ করবে না। জামায়াত ও এনসিপির নেতারা বলছেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে সরকারি দলের ভূমিকার ওপরই তাদের সংসদীয় অবস্থান নির্ভর করবে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে ওয়াকআউটের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর নেতারা বলেছেন, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সংসদে প্রতিবাদ জানানো হতে পারে।
নতুন সংসদের সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ। সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এসব অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর না করা হলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই আন্দোলনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় গঠিত এই সংসদের সামনে রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন সংসদ এসব বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা এখন দেখার অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
ন্যাশনিক্স/এলকে
