মহান স্বাধীনতার মাস ও অগ্নিঝরা মার্চ উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিবস, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ে নানা আয়োজন নেওয়া হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দলটি এক বিবৃতিতে জানায়, ১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা মার্চ বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান–এর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার স্মৃতিকে ধারণ করেই মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
৭ মার্চ: ঐতিহাসিক ভাষণ দিবস
৭ মার্চ উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।
এছাড়া ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ পাঠ, আলোচনা সভা এবং তরুণ-যুব-ছাত্রসমাজসহ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরতে বিভিন্ন পর্যায়ে সংলাপের আয়োজন থাকবে।
১৭ মার্চ: জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী
১৭ মার্চ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ও টুঙ্গিপাড়ায় শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিন শিশুদের জন্য উপযোগী বিভিন্ন কর্মসূচি এবং অসহায়-দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য ও সহায়তা সামগ্রী বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।
২৫ মার্চ: গণহত্যা দিবস
২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে ১৯৭১ সালের বর্বর হত্যাযজ্ঞের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে আলোচনা সভার আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে গণহত্যার ইতিহাস তুলে ধরা হবে।
২৬ মার্চ: মহান স্বাধীনতা দিবস
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবন এবং টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভারও আয়োজন থাকবে।
দলটি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশব্যাপী জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌর শাখায় পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোকে সময়োপযোগী কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বলছে, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অগ্নিঝরা মার্চের ঐতিহাসিক দিবসগুলো যথাযথ মর্যাদায় পালনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার ইতিহাস ও আদর্শ পৌঁছে দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
