অগ্নিঝরা মার্চের তৃতীয় দিন: স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ

অবশ্যই পরুন

অগ্নিঝরা মার্চের তৃতীয় দিন ৩ মার্চ ১৯৭১ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এদিন ঢাকার পল্টন ময়দানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত বিশাল সমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ইশতেহার পাঠ করা হয়। ইশতেহারটি পাঠ করেন ছাত্রলীগ নেতা শাজাহান সিরাজ।

ইশতেহারে ঘোষণা করা হয়, পূর্ব পাকিস্তানের সাত কোটি মানুষের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাম হবে “বাংলাদেশ”। একই সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। ঘোষণাপত্রে দেশের নাম, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত ও জাতীয় স্লোগান নির্ধারণের কথা উল্লেখ ছিল। সবুজ জমিনের মাঝে লাল সূর্যখচিত পতাকাকে জাতীয় পতাকা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়; বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–এর ‘আমার সোনার বাংলা’কে জাতীয় সংগীত এবং ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ইশতেহারে ৪ দফা ও ১৬ উপদফার মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা তুলে ধরা হয় এবং বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের সর্বাধিনায়ক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান–এর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে গেরিলা ও সম্মুখযুদ্ধের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের কথাও উল্লেখ করা হয়।

এদিন বঙ্গবন্ধুর পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকাসহ সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়। ভোর থেকেই লাখো মানুষ বাঁশের লাঠি হাতে রাজপথে নেমে আসেন। হরতালের কারণে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে মিছিলের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিবর্ষণ ও সংঘর্ষে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। রংপুর ও সিলেটে কারফিউ জারি করা হয়; ঢাকাতেও কারফিউয়ের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।

অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ১০ মার্চ ঢাকায় কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের বৈঠকের আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ আহ্বানকে “নিষ্ঠুর তামাশা” আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

বিকেলে পল্টনে ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের সমাবেশে ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু। তিনি ৪ থেকে ৬ মার্চ প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশব্যাপী হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং খাজনা-ট্যাক্স প্রদান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ঘরে ঘরে সংগ্রাম কমিটি ও মুক্তিবাহিনী গঠনের আহ্বান জানান।

ঐতিহাসিক ৩ মার্চ ১৯৭১ তাই স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।

ন্যাশনিক্স/এএএইচপি

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ