আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবেলায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সরকার। দেশে বর্তমানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৮৪৭ মেগাওয়াট হলেও গড়ে সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না। যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, গ্রিড সীমাবদ্ধতা ও কয়লা আমদানির জটিলতায় বাকি সক্ষমতা ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমানে দৈনিক গড় বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। গ্রীষ্মে তা বেড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব পড়লে গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোই বড় ভরসা হয়ে উঠতে পারে।
বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, গ্রীষ্মে সব কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো কঠিন। পটুয়াখালীর আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার লিমিটেড (আরএনপিএল) কেন্দ্রের একটি ১৩০ মেগাওয়াট ইউনিট বন্ধ রয়েছে, যা চলতি মাসের শেষদিকে চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কয়লা সরবরাহ জটিলতার কারণে বিশেষ করে পটুয়াখালীর ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের আরএনপিএল কেন্দ্রটি পূর্ণ উৎপাদনে যেতে পারেনি। একাধিকবার দরপত্র আহ্বান ও বাতিলের পর সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি চুক্তি হয়েছে। কেন্দ্রটির কাছে বিপিডিবির বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ১৯২ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঋণ পরিশোধ ও বাণিজ্যিক উৎপাদন বিলম্ব নিয়ে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন কেন্দ্রে কয়লার মজুদ ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় রয়েছে। বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ২২২ দিনের মজুদ থাকলেও কিছু কেন্দ্রে মজুদ এক মাসের কম। বিশেষ করে আরএনপিএল কেন্দ্রে মজুদ রয়েছে মাত্র সাত দিনের।
সরকার বলছে, লোডশেডিং এড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত না হলে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো কঠিন হবে। তাই জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।
