বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারসহ ১৪ দফা দাবিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন

অবশ্যই পরুন

শিক্ষাঙ্গনে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাছে ১৪ দফা দাবি তুলে ধরেছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল আওয়ামীপন্থী শিক্ষক। তাদের মধ্যে অনেকে গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন।

গত রোববার (১ মার্চ) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বহিষ্কৃত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, শিক্ষাঙ্গনে স্থিতিশীলতা ও একাডেমিক পরিবেশ রক্ষায় ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া সিদ্ধান্তের কারণে অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ পরিস্থিতি নিরসনে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নীল দলের শিক্ষক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আ ক ম জামালউদ্দিন, অধ্যাপক ড. তৌহিদা রশীদ, অধ্যাপক ড. সুরাইয়া আক্তার, অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক ড. শবনম জাহান, অধ্যাপক ড. আজমল হোসেন ভূইয়া, অধ্যাপক ড. জামিলা এ চৌধূরী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. কামাল উদ্দিনসহ আরও অনেকে।

১৪ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে

১. বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার: গত ১৮ মাসে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে যে সকল শিক্ষককে বহিষ্কার বা সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের বহিষ্কারাদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফেরার সুযোগ দিতে হবে।

২. মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার: শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

৩. পেশাজীবীদের মুক্তি: কারাবন্দি শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, শিল্পী, প্রকৌশলীসহ সকল নিরপরাধ পেশাজীবীকে অবিলম্বে বিনাশর্তে মুক্তি দিতে হবে।

৪. মব সন্ত্রাস বন্ধ ও তদন্ত বাতিল: মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে শিক্ষকদের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা এবং তাদের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘তদন্ত কমিটির’ নামে হয়রানি ও একাডেমিক বয়কটের সকল আদেশ বাতিল করতে হবে।

৫. পদোন্নতি ও বঞ্চনা নিরসন: অবৈধভাবে পদ অবনমন (Demotion) এবং বাধ্যতামূলক অবসরের আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। একই সাথে যোগ্য শিক্ষকদের বকেয়া একাডেমিক পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।

৬. প্রশাসনিক পদে পুনর্বহাল: বেআইনিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা পদত্যাগে বাধ্য করা শিক্ষকদের সসম্মানে তাদের স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে।

৭. বেতন-ভাতা পরিশোধ: শিক্ষকদের বন্ধ রাখা বেতন-ভাতা বকেয়াসহ অবিলম্বে চালু করতে হবে।

৮. শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়া: রাজনৈতিক কারণে (নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ জড়িত) বহিষ্কৃত সাধারণ শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে তাদের শিক্ষাজীবনে ফেরার পথ সুগম করতে হবে।

৯. সার্টিফিকেট পুনর্বহাল: ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বাতিল করা সার্টিফিকেট বা সনদপত্রের আদেশ দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে।

১০. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুরক্ষা: অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে।

১১. পেশাজীবীদের পুনর্বহাল: সাংবাদিক, ডাক্তার, প্রকৌশলীসহ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত সকল পেশাজীবীকে তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে পুনর্বহাল করতে হবে।

১২. জোরপূর্বক পদত্যাগের প্রতিকার: সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার যে সকল অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকদের মব জাস্টিসের মাধ্যমে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল, তাদের চাকরিতে পুনঃনিয়োগ ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

১৩. শ্রমিকদের কর্মসংস্থান: বন্ধ হওয়া কলকারখানা খুলে দিয়ে চাকরিচ্যুত লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে কাজে পুনর্বহাল করতে হবে।

১৪. বাক্-স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ: গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ বন্ধ করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং বাতিলকৃত অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডগুলো অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দুলাল চন্দ্রের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ