তিন দেশে সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানার বিরুদ্ধে ১২ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

অবশ্যই পরুন

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। বিশেষ করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে ঘিরে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত সম্পন্ন হয়নি এবং সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো বিচারিক সিদ্ধান্তও আসেনি।

দুদকের দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম ও অর্থ পাচারের অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই এবং আজারবাইজানে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ স্থানান্তরের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। হুন্ডি, ওভার-ইনভয়েসিং এবং কথিত শেল কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।

এছাড়া ২০২৪ সালের নভেম্বরে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনে সরকারি সফরের সময় কূটনৈতিক সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এসব তথ্য এখনো তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।

পরিবেশ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

দুদকে জমা পড়া অভিযোগগুলোর মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু তহবিলের প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো ও ভুয়া বিল প্রদানের মাধ্যমে অর্থ সরানোর দাবি করা হয়েছে অভিযোগপত্রে।

তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

পুরো মন্ত্রিসভা ঘিরে অভিযোগ

দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, শুধু রিজওয়ানা হাসান নন, সাবেক সরকারের একাধিক উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও অভিযোগ জমা পড়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কর সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সাবেক যুব ও শ্রম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধেও পৃথক পৃথক আর্থিক অনিয়ম, টেন্ডার জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের কেউই এখন পর্যন্ত আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি এবং অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে।

জবাবদিহিতা ও সতর্কতার আহ্বান

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, প্রাথমিক তথ্য আমলযোগ্য হলে অবশ্যই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে একই সঙ্গে যেন অভিযোগের নামে কাউকে হয়রানি করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, জমা পড়া অভিযোগগুলোর প্রাথমিক যাচাই-বাছাই চলছে। প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চপর্যায়ের এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা রাষ্ট্রীয় আস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে অর্থ পাচার সংক্রান্ত অভিযোগের যাচাই করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ