সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও শেখ হাসিনা শিগগিরই দেশে ফিরতে চান এবং সম্ভাব্য কারাবাস বা মৃত্যুদণ্ডকে ভয় পান না বলে দাবি করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবুল হাসনাত মিল্টন তার ইউটিউব চ্যানেল ডাক্তার মিল্টন শো-তে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির নেতাদের সঙ্গে সম্প্রতি শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে দেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন বয়কটের প্রসঙ্গ এবং মার্চ মাসের ৭, ১৭ ও ২৬ তারিখের ঐতিহাসিক দিবস পালনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বৈঠকের মূল বিষয় ছিল নির্বাসিত নেতাদের দেশে ফেরার প্রশ্ন।
ডা. মিল্টনের ভাষ্য অনুযায়ী, কলকাতায় অবস্থানরত নেতারা দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে ফিরতে চান বলে মত দেন। জবাবে শেখ হাসিনা তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশ দেন। নিজের দেশে ফেরার সময় সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ না জানালেও ইঙ্গিত দেন যে তিনি উপযুক্ত সময়ে ফিরবেন। ভিডিওতে আরও বলা হয়, তার পাসপোর্ট বাতিল থাকলেও তা কারিগরি বিষয় মাত্র এবং তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। প্রয়োজনে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত বলেও দাবি করা হয়।
এছাড়া প্রতিবেদনে মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করা হয় এবং গত বছরের ১২ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে সাম্প্রতিক এক ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরা হয়। ভিডিওর শেষাংশে দেশের রাজনীতি মূলত দুই প্রধান দলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরলে রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি হবে বলে মত প্রকাশ করা হয়।
