চীফ প্রসিকিউটর তাজুলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ

অবশ্যই পরুন

তাজুল ইসলাম-কে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চীফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমন দাবি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনায় অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এ সাম্প্রতিক কিছু মামলার বিচার কার্যক্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে শুরু করা হয়, যা তাদের ভাষায় ছিল অসাংবিধানিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা অভিযোগ করেন, গত প্রায় ১৬ মাস ধরে পরিচালিত বিচার কার্যক্রম ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণ করেনি এবং এটি মানবাধিকার পরিপন্থী ছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তাজুল ইসলামকে পুনর্গঠিত আইসিটির চীফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেন এবং ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বা সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি আর্থিক অনিয়ম নিয়ে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, নির্দিষ্ট কিছু মামলায় নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে।

অভিযোগে কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে এসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফরের সময়ও অর্থ লেনদেনের একটি অংশ সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল-এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ট্রাইব্যুনালের ভেতর থেকেও একজন প্রসিকিউটর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিচারপ্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। তা না হলে বিচারব্যবস্থা নিয়ে জনমনে আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।

ন্যাশনিক্স/এপি

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ