জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)কে তাদের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে শাপলা না দিয়ে ৫০টি ভিন্ন প্রতীক থেকে বেছে নিতে বলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটির নির্বাচন সহায়তা শাখার উপসচিব মো. রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এনসিপি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল এবং আবেদনপত্রে শাপলা, কলম ও মোবাইল ফোনকে প্রতীকের তালিকায় প্রাধান্য দিয়ে উল্লেখ করেছিল। পরবর্তীতে তারা শাপলা প্রতীকের রূপভেদ—সাদা বা লাল শাপলার কথাও জানায়। তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮–এর তালিকায় শাপলা প্রতীক নেই বলে জানিয়ে দেয় ইসি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, যে কোনো দলকে কেবল তালিকাভুক্ত প্রতীকই বরাদ্দ করা যাবে। সেই হিসেবে এনসিপিকে নির্ধারিত তালিকা থেকে একটি প্রতীক বেছে নিতে হবে। আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে লিখিতভাবে তা জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এনসিপিকে যে ৫০টি প্রতীক থেকে বেছে নিতে বলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—আলমিরা, খাট, উটপাখি, ঘুড়ি, কাপ-পিরিচ, চশমা, দালান, বেগুন, চার্জার লাইট, কম্পিউটার, জগ, জাহাজ, টিউবওয়েল, টিফিন ক্যারিয়ার, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, ফ্রিজ, তবলা, বক, মোরগ, কলম, তরমুজ, বাঁশি, লাউ, কলস, চিংড়ি, থালা, বেঞ্চ, লিচু, দোলনা, প্রজাপতি, বেলুন, ফুটবল, ফুলের টব, মোড়া, বালতি, কলা, বৈদ্যুতিক পাখা, মগ, মাইক, ময়ূর, মোবাইল ফোন, শঙ্খ, সেলাই মেশিন, সোফা, স্যুটকেস, হরিণ, হাঁস ও হেলিকপ্টার।
এদিকে, এনসিপির পক্ষ থেকে শাপলা প্রতীক না পেলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বিষয়টিকে হুমকি হিসেবে দেখছেন না। তিনি বলেন, “রাজনীতিবিদরা নানা কথা বলেন, আমরা তা শুনব। তবে প্রতীক বরাদ্দ হবে কেবল আইন অনুযায়ী।”
বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৫২। নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রথা চালু হয়। এ পর্যন্ত ৫৬টি দল নিবন্ধন পেলেও শর্ত পূরণে ব্যর্থতা ও আদালতের রায়ের কারণে পাঁচটি দলের নিবন্ধন বাতিল হয়। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন ফিরে পেলেও ইসি কেবল তাদের নিবন্ধন কার্যকর করেছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এনসিপিসহ দুটি দলকে নিবন্ধন দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। এছাড়া আরও ১৩টি দলের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে রয়েছে।
