অসহনীয় চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারেন উদ্যোক্তারা।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবগঠিত সরকারের নিকট প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে চেম্বারের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
তাসকীন আহমেদ বলেন, নতুন সরকার এমন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছে যখন অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে, বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি স্থবির। ব্যাংকিং খাতের সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি ঘাটতি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদাবাজির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। কারখানা, অফিস এমনকি রাস্তায়ও চাঁদা দিতে হয় বলে দাবি করেন তিনি। কারা এ কাজে জড়িত, তা সরকারকেই চিহ্নিত করতে হবে বলে মত দেন ডিসিসিআই সভাপতি।
ঋণের উচ্চ সুদহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমান নীতি সুদহারের কারণে উদ্যোক্তাদের ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ সুদে ব্যাংকঋণ নিতে হচ্ছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণের উচ্চহার এবং ঋণ শ্রেণীকরণের সময়সীমা কমিয়ে আনার ফলে আর্থিক খাতে চাপ তৈরি হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধিও উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বেসরকারি খাতের পুনরুজ্জীবনে চারটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও চাঁদাবাজি বন্ধ, সরকারি খাতে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি রোধ, অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের কার্যকর সহায়তা প্রদান এবং ঋণের সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, রপ্তানি খাতে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
