যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা গোলাম আযমকে ‘ভাষা সৈনিক’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা নিয়ে নানা সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জামায়াতের সহায়তায় এ ধরনের প্রচেষ্টা জোরদার হয়। সমালোচকদের মতে, গোলাম আযম মূলত উর্দুর পক্ষপাতী ছিলেন এবং ভাষা আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল সীমিত।
ভাষাসৈনিক আব্দুল গফুর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, গোলাম আযম ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন না। তার দাবি, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত বা সংশ্লিষ্ট সভা-সমাবেশে গোলাম আযমের অংশগ্রহণের প্রমাণ নেই। ভাষা আন্দোলনের সামনের সারির নেতৃত্বে ছিলেন আবদুল মতিন, কাজী গোলাম মাহবুব, শেখ মুজিবুর রহমান (বঙ্গবন্ধু), অলি আহাদ, গাজীউল হক, মোহাম্মদ তোয়াহাসহ অনেকে।
ভাষা আন্দোলনের আঞ্চলিক ইতিহাসভিত্তিক গ্রন্থে উল্লেখ আছে, ২০ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা জারির পর সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মী পরিষদের বৈঠকে তা অমান্য করা নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়। পরে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সমবেত হয়ে প্রতিবাদ জানান। পুলিশি বাধা, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং বিকেলে গুলিবর্ষণে জব্বার, রফিক, বরকত, সালামসহ কয়েকজন শহীদ হন। বিভিন্ন সংকলন ও লেখায় দাবি করা হয়েছে, ওই দিনকার মিছিলে গোলাম আযম উপস্থিত ছিলেন না।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৪৮ সালের ২৭ নভেম্বর লিয়াকত আলী খানের ঢাকা সফরকালে ডাকসুর পক্ষ থেকে দেওয়া মানপত্র পাঠ করেন তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক গোলাম আযম। এতে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এটুকুই ভাষা আন্দোলনে তার উল্লেখযোগ্য সম্পৃক্ততা বলে গবেষকেরা মনে করেন।
১৯৭০ সালে শুক্কুরে দেওয়া এক বক্তৃতায় গোলাম আযম ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়াকে ভুল বলে উল্লেখ করেন এবং উর্দুর পক্ষে বক্তব্য দেন। সে সময় তার বক্তব্য দৈনিক পাকিস্তান ও দৈনিক আজাদে প্রকাশিত হয়।
বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, গ্রন্থ ও ঐতিহাসিক বর্ণনায় ভাষা আন্দোলনে গোলাম আযমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্কের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
