মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি আতাউল গণি ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অবশ্যই পরুন

আজ মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী-এর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ইন্তেকাল করেন। 

১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন ওসমানী। তাঁর পৈতৃক নিবাস সিলেটের ওসমানীনগরের দয়ামীর গ্রামে। ছাত্রজীবনে তিনি অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেন; ১৯৩৪ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় ব্রিটিশ ভারতের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৯৩৮ সালে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ১৯৩৯ সালে ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। একই সময়ে ব্রিটিশ রাজকীয় সামরিক বাহিনীতে জেন্টেলম্যান ক্যাডেট হিসেবে মনোনীত হলেও শেষ পর্যন্ত দেরাদুনের সামরিক একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

ব্রিটিশ আমলে তিনি রয়্যাল আর্মড ফোর্সেস ক্যাডারে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং বাঙালিদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মেজর হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। দেশভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কর্নেল পদে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।

১৯৭০ সালে শেখ মুজিবুর রহমান-এর আহ্বানে রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং একই বছরের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে কৌশলগত নেতৃত্ব দেন।

স্বাধীনতার পর তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের প্রতিবাদে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে ‘জনতা পার্টি’ নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং ১৯৭৯ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসেবে ওসমানীর অবদান জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে দেশজুড়ে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ