২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তিনি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তবে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক এবং সমালোচনা বাড়ছে প্রতিনিয়ত।
নির্যাতন ও দমন-পীড়নের অভিযোগঃ
৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বাড়িঘর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, গণগ্রেপ্তার, এমনকি খুন ও গুমের ঘটনাও সামনে এসেছে। অনেকেই বলছেন এটি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চক্র ও পাকিস্তানপন্থি রাজনৈতিক শক্তিকে সামনে আনার একটি প্রচেষ্টা।
অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তাহীনতাঃ
সরকার পরিবর্তনের পর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। একই সঙ্গে নারীদের নিরাপত্তাহীনতা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, খুন ও লুটপাটের মতো ঘটনারও বৃদ্ধি ঘটেছে। এর ফলে জনগণের মধ্যে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তার পুনরুত্থানঃ
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেকেই আবারও আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা রাখার কথা বলছেন। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে দেশের সামগ্রিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল বলে জনগণের একাংশ মনে করছে। গ্রাম থেকে শহরে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে আবারও বাড়ছে এবং দলটির গ্রহণযোগ্যতাও ফিরতে শুরু করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সব কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে, তবে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় মিছিল-মিটিংয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সমালোচনার মুখে অন্তর্বর্তী সরকারঃ
অন্তর্বর্তী সরকারের নানা পদক্ষেপ নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তাহীনতা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। এর বিপরীতে বিরোধী শক্তি দমন-পীড়নের শিকার হলেও আওয়ামী লীগ ক্রমেই জনসমর্থন ফিরে পাচ্ছে।
বাংলাদেশ এখন এক রাজনৈতিক সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা টালমাটাল, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। আসন্ন সময়ের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে যাবে তা নিয়ে দেশবাসীর দৃষ্টি এখন রাজধানী ঢাকা ও দলগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
