কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে একটি মৎস্য খামারের পরিত্যক্ত ভবন থেকে ককটেল তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ও জিআই পাইপ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার পেড়িয়া ইউনিয়নের মগুয়া এলাকার ‘আল বাশারাত মৎস্য প্রজেক্ট’ থেকে এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, মৎস্য প্রজেক্টটি ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মামুনের মালিকানাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে কিছু অচেনা ব্যক্তি বস্তা নিয়ে ওই পরিত্যক্ত ভবনে যাতায়াত করছিলেন। বুধবার দুপুরে একটি মাইক্রোবাসে কয়েকজন এসে কিছু সময় অবস্থান করেন। পরে তারা কয়েকটি বস্তায় মালামাল ভরে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে এলাকাবাসী ভবনে গিয়ে ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম দেখতে পান। এরপর তারা থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে জিআই পাইপসহ সন্দেহভাজন বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
মৎস্য প্রজেক্টের ম্যানেজার রায়হান রহমান রাজু জানান, কয়েকদিন ধরে কিছু ব্যক্তি সেখানে এসে এক-দুই ঘণ্টা অবস্থান করতেন। তবে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু জানানো হতো না এবং অন্য কাউকে সেখানে যেতে দেওয়া হতো না।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন আহমেদ বলেন, “কয়েকদিন ধরে লোকজনের আসা-যাওয়ার কথা শুনছিলাম। আজ আমরা গেলে তারা পালিয়ে যায়। ভেতরে গিয়ে বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম দেখতে পাই। পরে পুলিশকে খবর দিই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাইফুল ইসলাম মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা নোমান বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, যুব বিভাগের নেতা মামুনকে ঘিরে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জাকির পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
নাঙ্গলকোট থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, খবর পেয়ে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে জিআই পাইপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এগুলো বিস্ফোরক কি না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ন্যাশনিক্স/এপি
