ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী পোস্টাল ভোট গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ–শাহরাস্তী) আসনের নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাকির হোসেন প্রধানিয়া। বিষয়টি আজ সোমবার (৯ জানুয়ারি) তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
আবেদনে মো. জাকির হোসেন প্রধানিয়া উল্লেখ করেন, হাইকোর্টের আপিল নং–৫০০/২০২৬-এর রায়ে তিনি ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি পান। এর দুই দিন পর, ২৩ জানুয়ারি, তাকে ‘ফুটবল’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে তার প্রার্থিতা ও প্রতীক বরাদ্দের আগেই, অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি থেকেই বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ভোট গ্রহণ শুরু হয়।
তিনি দাবি করেন, প্রার্থিতা ও প্রতীক বরাদ্দের পূর্বে পোস্টাল ভোট গ্রহণ শুরু হওয়া নির্বাচনী আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী। পরে ২৭ জানুয়ারি থেকে পোস্টাল ব্যালটে তার নাম ও প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করা হলেও এর আগেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, চাঁদপুর-৫ আসনে প্রবাসী পোস্টাল ভোটারের মোট সংখ্যা ১১ হাজার ৮১২ জন। প্রার্থিতা ও প্রতীক অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগেই ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ায় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সমতার প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসারকে অবগত করা হলে তিনি সমস্যার সমাধানে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, প্রার্থিতা ও প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রবাসী পোস্টাল ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর-৫ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিতসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাকির হোসেন প্রধানিয়া।
আবেদনের অনুলিপি জেলা রিটার্নিং অফিসার, সহকারী জেলা রিটার্নিং অফিসার এবং হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তী উপজেলার রিটার্নিং অফিসারদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
ন্যাশনিক্স/এপি
