মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় সেনা হেফাজতে রাসেল কাজী (৩৫) নামে এক যুবক নিহতের অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
নিহত রাসেল কাজী কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের উত্তর আন্ডারচর গ্রামের বাসিন্দা এবং আলম কাজীর ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার একটি সেনা ক্যাম্প থেকে আসা সেনা সদস্যরা রাসেলকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, বাড়ির পাশের একটি কাঁঠাল গাছের সঙ্গে বেঁধে এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে দফায় দফায় তাকে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মুলাদী সেনা ক্যাম্পে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি।
স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১টার দিকে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন করে রাসেলের মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয় এবং দ্রুত লাশ গ্রহণের অনুরোধ করা হয়। পরিবার ময়নাতদন্তের দাবি জানালে দাফন-কাফনের জন্য অর্থ ও একটি সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ সংক্রান্ত একটি কথোপকথনের অডিও রেকর্ড রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাসেলের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে সেনা ও প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার নিহতের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে পরিবার ও এলাকাবাসী। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফিন বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিহতের পরিবার চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সেনা ক্যাম্প ও পুলিশের কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ন্যাশনিক্স/এএএইচপি
