অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে জনগণকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। শনিবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।
ভিডিও বার্তায় সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, এই নির্বাচন একটি “সাজানো নির্বাচন”, যার উদ্দেশ্য বিএনপি ও জামায়াতকে ক্ষমতায় বসানো। তাঁর মতে, নির্বাচনের ফলাফল আগেই নির্ধারিত এবং ভোটের হার সম্পর্কেও নির্বাচন কমিশন পূর্ব থেকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাই এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের কোনো লাভ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনে দেশের অর্ধেকের বেশি রাজনৈতিক দলকে বাদ দেওয়া হয়েছে দাবি করে জয় বলেন, শুধু আওয়ামী লীগ নয়, স্বাধীনতার পক্ষের ও প্রগতিশীল বহু দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, যেসব শক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদেরই ক্ষমতায় আনার লক্ষ্যেই এই নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, অর্থনৈতিক সংকট ও গণতান্ত্রিক শূন্যতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণ স্বাভাবিকভাবেই বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। তবে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য একতরফা ও জোরপূর্বক সংস্কার কার্যকর হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণভোট ও তথাকথিত সংস্কার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, অতীতে সামরিক শাসনামলে এ ধরনের উদ্যোগ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী না করে বরং আরও দুর্বল করেছে। তাঁর আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট ও সংঘাত আবারও ফিরে আসবে।
সবশেষে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে সমর্থন করা হোক বা না হোক, দেশের ভালো ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে এই নির্বাচনে ভোট না দেওয়াই উত্তম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত নাটক, যেখানে ভোট দিয়ে বাস্তব কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।
ন্যাশনিক্স/এএএইচপি
