দীর্ঘ ২২ বছর পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুলনা বিভাগ সফরে এসেছেন। আজ সোমবার খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। অনেকের হাতে ছিল ধানের শীষ প্রতীক, কারও হাতে তারেক রহমানের ছবি এবং কারও হাতে জাতীয় পতাকা। বেলা ১১টার আগেই সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
খুলনা মহানগর বিএনপি সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা ১১টায় হেলিকপ্টারে করে ঢাকা থেকে খুলনায় পৌঁছান তারেক রহমান। দুপুর ১২টায় তিনি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজ সংলগ্ন প্রভাতী স্কুল মাঠের জনসভায় যোগ দেন।
জনসভা শেষে দুপুর ১টায় হেলিকপ্টারে খুলনা থেকে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে যশোরের নতুন উপশহরের বিরামপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন। সেখানে কর্মসূচি শেষে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান।
দলীয় সূত্র জানায়, খুলনার এই জনসভায় বৃহত্তর খুলনা জেলার ১৪ জন বিএনপি প্রার্থীকে ভোটারদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
নেতারা আশা প্রকাশ করেন, খুলনা ছাড়াও বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, নড়াইল, মাগুরা ও যশোর জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ এই জনসভায় অংশ নেবেন।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন জানান, জনসভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা। সভায় বৃহত্তর খুলনার ১৪ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
এদিকে তারেক রহমানের খুলনায় আগমন উপলক্ষে নগরজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়।
পুলিশ জানায়, তারেক রহমানের যাতায়াতের পথ, সমাবেশস্থলের ভেতর ও বাইরে পোশাকধারী পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, র্যাব, সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। নগরীর বিভিন্ন প্রবেশপথে বসানো হয় পুলিশের চেকপোস্ট।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, জনসভা উপলক্ষে খুলনার ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকবে এবং সাধারণ যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে না। তবে বিপুল জনসমাগমের কারণে সাধারণ মানুষকে সমাবেশস্থল এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
