বাংলাদেশে আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়ায় তিনি এই নির্বাচনকে ‘বিভাজনমূলক ও অনির্ভরযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এপি-কে পাঠানো এক প্রতিক্রিয়ায় শেখ হাসিনা বলেন, “যে সরকার রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের মাধ্যমে গঠিত হয়, তারা একটি বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে না।” তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হলে তা জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ায়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করে এবং ভবিষ্যতে অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি করে।
২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলন দমনের ঘটনায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর দেশজুড়ে সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের সরকারের পতন ঘটে। ওই ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। এটি শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করছে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। একইসঙ্গে ভোটাররা একটি প্রস্তাবিত সাংবিধানিক গণভোটেও মতামত দেবেন, যা রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
যদিও ড. ইউনূস একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছেন, তবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নিয়েছেন। তাঁকে আসন্ন নির্বাচনের অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা সম্প্রতি দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাঁর এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ভারত সরকারকে তাঁকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ‘বিস্ময় ও হতাশা’ প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালেও, এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি নয়াদিল্লি।
সুত্র: আল জাজিরা
ন্যাশনিক্স/এলকে
