শেরপুরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে ঝিনাইগাতী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করে ডাকসু।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা রেজাউল করিম হত্যার বিচার, নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধ এবং সারাদেশে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা দ্রুত খুনিদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
সমাবেশে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ড সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তিনি এসব ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিগুলোর দায় নির্ধারণের দাবি জানান।
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বলেন, নির্বাচনের সময় নাগরিক ও প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এর দায় নিতে হবে। শেরপুরের ঘটনায় শুধু রাজনৈতিক কর্মী নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও আহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহিংস রাজনীতি পরিহার করতে হবে। খুন, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি দিয়ে রাজনীতি চলতে পারে না এমনটাই জনগণের প্রত্যাশা।
সমাবেশ থেকে রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
ন্যাশনিক্স/এলকে
