দেশের বৃহত্তম উন্নয়ন প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটির ব্যয় আরও ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বাড়ানোর পাশাপাশি নির্মাণকাল প্রায় আড়াই বছর বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রূপপুর প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।
রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, সংশোধিত রূপপুর প্রকল্পসহ একনেক বৈঠকে মোট ২৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা, বিদেশি ঋণ ৩২ হাজার কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থ ২ হাজার ১৯২ কোটি টাকা।
তিনি আরও বলেন, এটি বর্তমান সরকারের সর্বশেষ একনেক বৈঠক হলেও প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আবার বৈঠক ডাকা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো আইনগত বাধা নেই। অতীতেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একনেক বৈঠক হয়েছে বলে উদাহরণ দেন তিনি।
একনেক বৈঠকে একসঙ্গে এত বেশি প্রকল্প অনুমোদনের কারণ ব্যাখ্যা করে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, পূর্বনির্ধারিত দুটি একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এবার প্রকল্পের সংখ্যা বেশি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ না হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অর্থছাড় বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা পাঠানো হবে। পাশাপাশি সব প্রকল্পের ক্ষেত্রে ছয় মাস অন্তর অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান কমে যাওয়ায় টাকায় হিসাব করা ব্যয় বেড়েছে। তবে ডলারে প্রকল্প ব্যয় বাড়েনি। পাশাপাশি রাশিয়ার দেওয়া ঋণ পরিশোধে জটিলতার কারণে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়াতে হয়েছে। ইতোমধ্যে ঋণ পরিশোধ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এস এম শাকিল আখতার জানান, রাশিয়া রূপপুর প্রকল্পে প্রায় ১১ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে। ২০১৫ সালে ঋণচুক্তির সময় প্রতি ডলারের মূল্য ছিল ৮০ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকায়। ডলারের দামে এই ব্যবধানই মূলত ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
বৈঠকে আরও কয়েকটি বড় প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের সহায়তায় পঞ্চগড়ে এক হাজার শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প। প্রায় ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের অধিকাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দেবে চীন সরকার। এছাড়া চট্টগ্রামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, দোহাজারী–কক্সবাজার রেলপথ সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে আগামী সরকারকে আরও সতর্ক হতে হবে। উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ায় এমন প্রকল্পেই বিদেশি ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ন্যাশনিক্স/এলকে
