বাগেরহাট-এ ঘটে যাওয়া হৃদয়বিদারক ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের লেখা একটি চিঠি। জানা গেছে, স্ত্রী আত্মহত্যার আগেই ওই চিঠিটি তাকে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে স্ত্রী তার ৯ মাসের সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যা করলে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পারিবারিক সংকট, মিথ্যা মামলার আইনি জটিলতা ও মানসিক চাপে ভুগছিলেন সাদ্দাম। এসব বিষয় উল্লেখ করে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি একটি দীর্ঘ চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি নিজের অসহায়ত্ব, চলমান মিথ্যা মামলার প্রেক্ষাপট, আর্থিক লেনদেন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন।
চিঠিতে সাদ্দাম উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা GR-৩০৬/২৪ নম্বর মামলার সময় তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করছিলেন এবং এর প্রমাণ পাসপোর্টে রয়েছে। তিনি স্ত্রীকে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলা, কোর্টে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া এবং দ্রুত জামিনের চেষ্টা করার কথাও লেখেন। পাশাপাশি যেসব জায়গায় টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো ফেরত আনার বিষয়েও নির্দেশনা দেন।
চিঠির শেষ অংশে সন্তানের কথা উল্লেখ করে সাদ্দাম লেখেন, ছেলেটাকে কোলে নিতে না পারার কষ্টই তার জীবনের সবচেয়ে বড় বেদনা। এই অংশটুকু পড়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
ঘটনার পর স্ত্রী ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, চিঠিটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পারিবারিক সম্পর্ক, মানসিক চাপ, আর্থিক ও আইনি বিষয় সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই ঘটনায় একটি শিশুর মৃত্যু হওয়ায় এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
