আগামী ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই চার্টার সংশ্লিষ্ট গণভোট (রেফারেন্ডাম) আয়োজন নিয়ে গুরুতর সাংবিধানিক ও আইনি প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়ার নেতৃত্বে একদল আইনজীবী এই রিট দায়ের করেন। রিটটি দায়ের করা হয় নাগরিক নাদিম আহমেদের পক্ষে, যা জনস্বার্থে করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রিটে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, ২০২৫ সালের নির্বাচন আচরণবিধি এবং ১৯৭২ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন হলেও নির্বাচন কমিশন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
রিটে অভিযোগ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিরপেক্ষ থাকার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এমনকি রাষ্ট্রীয় সম্পদ, সরকারি প্ল্যাটফর্ম ও প্রশাসনিক কাঠামো ব্যবহার করে গণভোটের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
রিটে আরও বলা হয়, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এসব লঙ্ঘনের প্রমাণ প্রকাশিত হওয়ার পরও নির্বাচন কমিশন কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
একই দিনে (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে রিটে। আবেদনকারীদের মতে, এতে ভোটারদের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে, সমতল মাঠ নষ্ট হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ব্যাহত হবে।
রিটকারীদের পক্ষে অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের বিরুদ্ধে নয়; বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নির্বাহী হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিরুদ্ধে একটি আইনি চ্যালেঞ্জ।
রিটে নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তাকে অবৈধ ঘোষণা, বিচারিক পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন ও গণভোটের সব কার্যক্রম স্থগিত এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।
এই রিটে আরও যেসব আইনজীবী যুক্ত রয়েছেন, তাদের মধ্যে আছেন অ্যাডভোকেট চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, তামান্না ফেরদৌস, ফারজানা রহমান শম্পা, সুবীর নন্দী দাস, সায়েম মোহাম্মদ মুরাদ, মুহতাদি হোসেন, ফয়সাল আহমেদ রনি, নাহিদ ইসলাম চৌধুরী, বিপ্লব কুমার দাস ও শাহাদাত হোসেন শিমুল।
ন্যাশনিক্স/এলকে
