ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই আমদানিতে ব্যয় হবে মোট ১ হাজার ৪৬১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। কারণ, বর্তমান সরকার প্রকাশ্যে বারবার ভারতবিরোধী বক্তব্য দিয়ে জনমত উত্তপ্ত করলেও বাস্তবে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই শত শত কোটি টাকার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ এটি নিছক বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং জনগণের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা।
একদিকে রাজনৈতিক মঞ্চে ভারতবিরোধী স্লোগান, বক্তৃতা ও আবেগী বক্তব্য দিয়ে দেশের মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলা হচ্ছে। অন্যদিকে নেপথ্যে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে হাজার কোটি টাকার লেনদেন চলছে নির্বিঘ্নে। এই দ্বিমুখী নীতি নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
“সরকার জনগণের আবেগকে ব্যবহার করছে নিজের ফায়দা লুটতে। ভারতবিরোধিতা এখানে আদর্শ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার।”
তারা বলছেন, যদি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কই রাখতে হয়, তবে জনগণের সামনে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত। মুখে এক কথা আর কাজে আরেক কথা এই দ্বিচারিতা রাষ্ট্রীয় নীতির বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অনেকে মনে করছেন, ভারতবিরোধী আবেগ উসকে দিয়ে সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছে। অথচ বাস্তবে ভারতের ওপর নির্ভরতাই আরও গভীর হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন
ভারত যদি এতটাই ‘অশুভ শক্তি’ হয়, তাহলে তার কাছ থেকেই কেন হাজার কোটি টাকার জ্বালানি কেনা হচ্ছে?
আর যদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়, তবে কেন জনগণকে মিথ্যা ভারতবিরোধী আবেগে উসকে দেওয়া হচ্ছে?
এই প্রশ্নগুলোর কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। তবে একথা পরিষ্কার মুখে মুখে ভারতবিরোধিতা আর গোপনে ভারতের কাছে নত হয়ে যাওয়ার এই রাজনীতি দেশের মানুষের কাছে ক্রমেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।
জনগণের ভাষায়,
“এটা আর কূটনীতি নয়, এটা সরাসরি দ্বিচারিতা।”
ন্যাশনিক্স/এলকে
