ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. আমির হামজাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামায় তাঁর ঘোষিত আয়–সম্পদের সঙ্গে প্রকাশ্য বক্তব্যের অসামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকরা।
ইসিতে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, আমির হামজার বার্ষিক আয় ৯ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ টাকা। সেখানে তাঁর পেশা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ব্যবসা ও কৃষি। একই সঙ্গে স্ত্রী ও তিন মেয়েসহ পরিবারের নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
কিন্তু এই তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে সমালোচনা জোরালো হয়েছে। কারণ, বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে দেওয়া এক বক্তব্যে আমির হামজাকে বলতে শোনা যায় তিনি আকিজ গ্রুপে কাজ করে মাসে প্রায় ৪ লাখ টাকা আয় করেন। ওই বক্তব্যের ভিডিও ও অডিও ক্লিপ ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
সমালোচকদের দাবি, মাসে ৪ লাখ টাকা আয় হলে বার্ষিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ৪৮ লাখ টাকা, যা হলফনামায় ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে তাঁকে ‘ভণ্ডামি’, ‘মিথ্যাচার’ এবং সম্ভাব্য ‘কর ফাঁকি’র অভিযোগে কাঠগড়ায় তুলছেন অনেকে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন হলফনামায় কম আয় দেখানো হয়েছে কি না, নাকি ওয়াজে দেওয়া বক্তব্যই ছিল অতিরঞ্জিত।
এদিকে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় ‘কালো টাকার খেলা’ নিয়েও আলোচনা চলছে। বিরোধীরা বলছেন, আমির হামজার বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগ রয়েছে, আর আয়–ব্যয়ের এই অসংগতি সেই বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করেছে।
এ বিষয়ে আমির হামজা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনকালীন সময়ে একজন প্রার্থীর আয়–সম্পদের স্বচ্ছতা নিয়ে এমন প্রশ্ন উঠায় ভোটারদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না জামায়াতের এই নেতার। আয় ও পেশা সংক্রান্ত তথ্যের অস্পষ্টতা দূর করতে স্পষ্ট ও প্রামাণ্য ব্যাখ্যা না এলে নির্বাচনী মাঠে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের।
