দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি)। বাংলা ও বাঙালির স্বাধীনতা, স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের জন্মের আগেই গড়ে ওঠে এই গৌরবময় ছাত্র সংগঠন।
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন তরুণ নেতা শেখ মুজিবের অনুপ্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতায় একদল মেধাবী ও দেশপ্রেমিক ছাত্রের সম্মিলিত উদ্যোগে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এটি আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
৭৮ বছরের ইতিহাসে ছাত্রলীগ বাঙালি জাতির ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা অর্জন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিটি পর্যায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ভাষা আন্দোলনে ১৪৪ ধারা ভেঙে রক্তের বিনিময়ে মাতৃভাষার অধিকার আদায়, যুক্তফ্রন্টের বিজয়, আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, বঙ্গবন্ধুর মুক্তি, সত্তরের নির্বাচন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগের আত্মত্যাগ ও নেতৃত্ব দেশের ইতিহাসে অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে।
স্বাধীনতার পরও সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনসহ গণতন্ত্র ও প্রগতির প্রতিটি সংগ্রামে ছাত্রলীগের অবদান উল্লেখযোগ্য। ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁকে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নেতারা পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং আজও রাখছেন।
উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
