দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীত প্রবেশ করেছে, আর এতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় প্রবীণদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, আর্থ্রাইটিস ও ঠাণ্ডাজনিত অন্যান্য সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই শীতকালে প্রবীণদের জন্য বিশেষ যত্ন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী শীতকালে প্রবীণদের করণীয়:
১. উষ্ণ ও পর্যাপ্ত পোশাক ব্যবহার: শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে উষ্ণ সোয়েটার, কম্বল, মোজা এবং টুপি ব্যবহার করা জরুরি। বিশেষ করে হাত, পা ও মাথা ভালোভাবে ঢাকা রাখলে শরীরের তাপমাত্রা সঠিক থাকে।
২. সুষম ও পুষ্টিকর খাবার: ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, দুধ, মাছ, সবজি ও ফল প্রবীণদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সুষম খাদ্য গ্রহণে শক্তি বজায় থাকে এবং শরীর সুস্থ থাকে।
৩. প্রচুর জলপান: শীতকালে অনেকেই কম পানি পান করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত জলপান রাখা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শরীরের হাইড্রেশন বজায় রাখে এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমায়।
৪. হালকা ব্যায়াম ও শারীরিক কার্যক্রম: হালকা হাঁটাহাঁটি, যোগব্যায়াম বা ঘরের ভিতরে ব্যায়াম করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে, হাড়-মাংসপেশি সুস্থ থাকে এবং ঠাণ্ডা থেকে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৫. সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে সতর্কতা: শীতকালে সর্দি, কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্রনিক রোগে আক্রান্ত প্রবীণদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৬. ঠাণ্ডা বাতাস ও খোলা স্থানে দীর্ঘ সময় থাকা এড়ানো: দীর্ঘ সময় বাইরের ঠাণ্ডা বাতাসে থাকা ঠাণ্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বাড়ির ভিতরে উষ্ণ পরিবেশ বজায় রাখা উচিত।
গেরিয়াট্রিক বিশেষজ্ঞ বলেন, “প্রবীণদের জন্য শীতকালে স্বাস্থ্য ঝুঁকি খুবই বেশি। পরিবারের সদস্যদের অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে, প্রবীণরা ঠিকভাবে খাচ্ছে কি, উষ্ণ আছে কি, এবং শারীরিক কোনো অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিচ্ছে কি।”
বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন, শীতকালে পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক শান্তি এবং সামাজিক সংস্পর্শও প্রবীণদের সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। এই সতর্কতা মেনে চললে প্রবীণরা সুস্থ ও নিরাপদ থাকতে পারবেন এবং শীতকালের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।
ন্যাশনিক্স/এপি
