২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আন্দোলনের মুখে পতন ঘটলেও সময়ের ব্যবধানে দেশের ভেতরের জনমত দ্রুত পাল্টে গেছে। আন্দোলনের উত্তাপে যেসব মানুষ সেই সময় রাস্তায় নেমেছিলেন, তাদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এখন মনে করছেন তাদের সেই আন্দোলনে অংশগ্রহণ ছিল তড়িঘড়ি করা এবং অনেকাংশে একটি ষড়যন্ত্রমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গত এক বছরে দেশের অর্থনীতি, আইন–শৃঙ্খলা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও মানুষের দৈনন্দিন নিরাপত্তা যেভাবে নাজুক হয়ে পড়েছে, তা বর্তমান জনমতের একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মনে করছেন শেখ হাসিনার সময়ে দেশের যে স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ধারা ছিল, তা এখনকার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে তার মূল্য আরও অনেক বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, বৈদেশিক রিজার্ভে চাপ, বিনিয়োগে স্থবিরতা, নিরাপত্তাহীনতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বাকস্বাধীনতা সংকট ব্যাপকভাবে সাধারণ মানুষের জীবনে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর বিপরীতে শেখ হাসিনার দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের শাসনামলে যেসব বড় উন্নয়নকাজ হয়েছিল, সেগুলোর গুরুত্ব ও প্রভাব এখন নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানো, মেট্রোরেলের মাধ্যমে রাজধানীর যাতায়াতে গতি ফিরিয়ে আনা, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে চট্টগ্রামের শিল্প ও বন্দর কার্যক্রমে নতুন দিগন্ত উন্মোচন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি এসব প্রকল্প এখন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে আবার সামনে আসছে।
এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরসহ সারাদেশে বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং হাজার হাজার তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও অতীত সরকারের ইতিবাচক অর্জন হিসেবে জনগণের আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও কৃষকদের বিভিন্ন ভর্তুকি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের জীবনে নিরাপত্তার একটি কাঠামো তৈরি করেছিল। নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ডিজিটাল সেবা বিস্তার, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গত দশকে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করে, যার সুফল পরিবার ও সমাজে স্থায়ী প্রভাব ফেলেছিল।
আন্তর্জাতিক মহলে তখন বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হতো। দারিদ্র্য হ্রাস, শিল্পোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে ধারাবাহিক অগ্রগতি দেশকে মধ্যম আয়ের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। ফলে বর্তমান অস্থির পরিবেশে অনেকেই বলছেন শেখ হাসিনার সময়কার নেতৃত্ব, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঠিক দিকনির্দেশনা এখন আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে বোঝা যাচ্ছে।
দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান অনিশ্চয়তা যত বাড়ছে, জনগণের মধ্যে ততই আগের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার প্রতি নতুন উপলব্ধি তৈরি হচ্ছে। নানা আলোচনা ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ায় একটাই বিষয় পরিষ্কার বর্তমান দুরবস্থার তুলনায় শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতা এখন অনেকের কাছেই “ভালো সময়ের” প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
ন্যাশনিক্স/একেএ
