টেকনাফে গত এক বছরে ২৬৪ অপহরণ, স্থায়ী আতঙ্কে সীমান্তবাসী

অবশ্যই পরুন

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে গত এক বছরে অন্তত ২৬৪ জন মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ভুক্তভোগী পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে অপহরণকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

টেকনাফের পাহাড়ি এলাকা, মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন বনাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী রাস্তা এসব জায়গা এখন অপহরণকারীদের প্রধান সক্রিয় অঞ্চল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অধিকাংশ ঘটনায় রাতে বা ভোরের সময় শ্রমিক, জেলে, গাড়িচালক, দোকানি ও সাধারণ পথচারীদের আটকিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণের পরপরই স্বজনদের ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়, যার পরিমাণ ৫০ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, অপহরণকারীরা ভয় দেখিয়ে বলে টাকা না দিলে অপহৃত ব্যক্তিকে জীবিত আর পাওয়া যাবে না। এই আতঙ্কে অনেক পরিবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করতেও সাহস পায় না। স্থানীয়দের ভাষায়, “টেকনাফে এখন অপহরণের ভয়েই জীবন কাটছে।”

গত কয়েক মাসে অপহরণ বেড়ে যাওয়ায় টেকনাফে একাধিকবার বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ হয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, পর্যটক ও সাধারণ মানুষের চলাচল এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় মানুষ রাস্তায় নামতে ভয় পান।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অপহরণকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সীমান্ত ঘেঁষা এলাকার ভৌগোলিক জটিলতা, পাহাড়ি অস্ত্রধারী দল এবং মাদক-সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সক্রিয়তার কারণে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “একাধিক গ্রুপ সক্রিয়। আমরা প্রতিটি ঘটনার পেছনে থাকা চক্র শনাক্তে কাজ করছি।”

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, যৌথ বাহিনীর টহল বৃদ্ধি, পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান, সীমান্তে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন এবং স্থানীয় দালাল নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ। তাদের ভাষায়, “অপহরণের মতো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে সীমান্ত এলাকা অচিরেই অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।”

টেকনাফের বাসিন্দারা বলছেন স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে দ্রুত শক্তিশালী ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। না হলে টেকনাফ আরও দীর্ঘ সময় ধরে অপহরণের ছায়ায় ঢাকা পড়ে থাকবে।

ন্যাশনিক্স/এপি

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ