আজ শুরু হলো বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এই মাসটি স্মরণীয় গৌরবের, কারণ ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরেই চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে বাংলাদেশ। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করে, জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
এই বিজয়ের পেছনে ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৃঢ় নেতৃত্ব, যিনি ছয় দফা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তুলেছিলেন। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করে, আর ২৫ মার্চের গণহত্যার পর তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা সমগ্র জাতিকে একত্রিত করে।
বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানে বন্দী থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্ব বহন করেন জাতীয় চার নেতা তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান। তারা মুজিবনগর সরকার গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক, কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, যা পুরো যুদ্ধকে সংগঠিত ও সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই মাসে বাঙালি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে ৩০ লাখ শহীদ, লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসকে। একই সঙ্গে স্মরণ করা হয় বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার অবদান, যাদের নেতৃত্ব ছাড়াই স্বাধীনতার সূর্য উদিত হতো না। বিজয়ের এই মাস তাই শুধু উৎসবের নয় মূল্যবোধ, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা রক্ষার অঙ্গীকার নতুন করে করার সময়।
ন্যাশনিক্স/একেএ
