কড়াইলের আগুন কি আসলেই দুর্ঘটনা? নাকি এর পেছনে অন্য কিছু?

অবশ্যই পরুন

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডে শত শত মানুষ সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে। ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে থাকা সবচেয়ে বড় বস্তিটি বহুদিন ধরেই পুনর্বাসন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু। আর ঠিক এমন সময়েই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, যখন সম্প্রতি-২০২৪ সালের নভেম্বরেই এই এলাকাকে ঘিরে বড় ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়টি আবারও সামনে আসে।

২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর আইসিটি খাতের সংস্কার নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর জানান, মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে হাই-টেক পার্ক গড়ার একটি প্রস্তুত পরিকল্পনা রয়েছে এবং বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের নকশাও তৈরি আছে। তাঁর বক্তব্যে আরও উঠে আসে যে রাজনৈতিক সরকারের পক্ষে অতীতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি, কিন্তু বর্তমান সরকারের সামনে একটি বিরল সুযোগ রয়েছে।

এই বক্তব্যের অল্প সময় পরই কড়াইলে বড় ধরনের আগুন লাগার ঘটনাটি অনেকের মনে প্রশ্ন তুলছে। যে এলাকায় উচ্চমূল্যের জমি, বিদেশি বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং বহুদিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা জড়িত, সেখানে আগুন কি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি পরিস্থিতিকে বদলে দেওয়ার মতো কোনো অদৃশ্য চাপ কাজ করছে—এমন সন্দেহই ঘুরে ফিরে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বস্তিতে আগুন নতুন নয়, তবে যখনই কড়াইলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়, তখনই এমন ঘটনাগুলো আরও রহস্যজনক হয়ে ওঠে।

সরকারি তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, অসতর্কতা বা পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ সব ধরনের সম্ভাবনাই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, তবুও সাম্প্রতিক এই অগ্নিকাণ্ড কড়াইল বস্তিকে ঘিরে থাকা ২০২৪ সালের উন্নয়ন পরিকল্পনার আলোচনা আরও তীব্র করেছে।

এ ঘটনায় পুরোনো প্রশ্নটি আবার সামনে এসেছে। কড়াইল বস্তির আগুন কি কেবলই একটি দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা, নাকি ঢাকা শহরের সবচেয়ে আলোচিত জমির ভবিষ্যৎকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন কোনো অধ্যায়? তদন্তের ফলাফলই তা পরিষ্কার করবে, তবে আপাতত কড়াইল আবারও রাজধানীর উন্নয়ন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

ন্যাশনিক্স/এজে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ