লালদিয়া ও পানগাঁও দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুই বন্দরকে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি করপোরেশনের হাতে তুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত এখন দেশব্যাপী ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু। লালদিয়ায় ৩৩ বছর এবং পানগাঁওয়ে ২২ বছরের জন্য বিদেশি কোম্পানিকে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আর এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এমন এক গতিতে যে স্বচ্ছতার গন্ধও নেই। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই লালদিয়ার মতো বড় চুক্তি চূড়ান্ত করা এটা কি কোনোভাবে স্বাভাবিক? জনগণ, দেশীয় ব্যবসায়ী, স্টেকহোল্ডার কারও মতামত ছাড়াই বন্দর মতো জাতীয় সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তে মানুষের ক্ষোভের প্রধান কারণ হলো এটা সাধারণ চুক্তি নয়; দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ, লজিস্টিকস, অর্থনীতি ও বাণিজ্যের মূল স্নায়ু অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার মতো এক সিদ্ধান্ত। কথা উঠছে, এটি উন্নয়নের নাম করে আসলে কি দীর্ঘমেয়াদে দেশ বিক্রির আয়োজন? আরও উদ্বেগজনক হলো চুক্তিতে নন-ডিসক্লোজার শর্ত থাকার অভিযোগ। অর্থাৎ জনগণই জানবে না দেশের সম্পদ কী শর্তে “হস্তান্তর” হলো। দেশের মানুষকে অন্ধকারে রেখে জাতীয় সম্পদের ভবিষ্যৎ ঠিক করা এটাই বা কীভাবে দায়বদ্ধতার পরিচয়?
জাতীয় বন্দর বিদেশিদের হাতে গেলে ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি, ভাড়া, চার্জ সবকিছুতে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। দেশের লজিস্টিক কোম্পানি ও শ্রমিকরা ইতিমধ্যেই আশঙ্কায় আছে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ যদি বিদেশিরাই পায়, তাহলে দেশীয় সক্ষমতা ও বাজার কোথায় দাঁড়াবে? ৩৩ বছর বলতে এক প্রজন্ম নয়, প্রায় দেড় প্রজন্ম এক তরুণ চাকরি শুরু করলে অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্তও বন্দর বিদেশিরাই চালাবে। ২২ বছর বলতে একই চিত্র। এই সময়টি দেশের জন্য হারানো সময় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি এ ধরনের সিদ্ধান্তে জনগণের মতামত, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে, চুক্তির সব বিস্তারিত প্রকাশ করে, দেশের স্বার্থ এবং নিয়ন্ত্রণ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুনর্বিবেচনা করা উচিত।ক্ষমতায় স্বাদ দীর্ঘায়িত করা কিংবা বিদেশি প্রভুদের খুশি করতে দেশ বিরোধী এই চুক্তি বাতিল সময়ের দাবি।
লেখক: আবুল কালাম আসিফ
সাবেক কর্মী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
