রাজধানীর মিরপুরে শতাব্দী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ও অপপ্রচার শুরু হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করছে, “ছাত্রলীগের কর্মীরা বাসে আগুন লাগিয়েছে,” আবার কেউ বলছে, “এটি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়েছে” যার লক্ষ্য আগামী ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ঘোষিত ঢাকা লকডাউন কর্মসূচিকে সহিংস হিসেবে উপস্থাপন করা।
বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর-১ নম্বরে সনি সিনেমা হলের সামনে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি হঠাৎ এসে শতাব্দী পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে শাহ আলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসের পেছনে থাকা কোনো যাত্রীর সিগারেট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে এটি পরিকল্পিত কিছু কি না, সেটি আমরা তদন্ত করছি।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পক্ষ ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রূপ দিতে শুরু করে। বিশেষ করে কিছু পোস্টে দাবি করা হয় “ছাত্রলীগের কর্মীরা নাশকতার অংশ হিসেবে বাসে আগুন দিয়েছে।”
পুলিশ বলছে, এখন পর্যন্ত তদন্তে এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি, বরং এটি একটি দুর্ঘটনাই হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অপপ্রচার মূলত সরকারের আসন্ন লকডাউন কর্মসূচিকে সহিংস হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হতে পারে। তারা বলছেন, ঘটনাটির সঙ্গে ছাত্রলীগ বা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সম্পৃক্ততা না থাকলেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এর আগে একই দিনে রমনা মডেল থানার সামনে পুলিশের একটি গাড়িতেও আগুন লাগে। তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক জানিয়েছেন, “গাড়ির কাজ করার সময় ব্যাটারি সংযোগের ত্রুটির কারণে আগুন লাগে। এতে কোনো দুর্বৃত্তের সম্পৃক্ততা নেই”।
ন্যাশনিক্স/একেএ
