বিমানবন্দর থেকে সড়ক পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

অবশ্যই পরুন

আগামী ১৩ নভেম্বর শেখ হাসিনার বিচার সংক্রান্ত রায় ঘোষণার দিনকে ঘিরে দেশে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে সরকার। সেই দিন কার্যক্রম, আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোকে মাঠে সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে, তবে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে শেখ হাসিনার বিচার সংক্রান্ত কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক নাশকতা ঠেকাতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপদেষ্টা জানান, সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো সন্ত্রাসী দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য বিজিবিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, মেট্রোরেল, রেলওয়ে ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বাসে আগুন দেওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত, তারা দুষ্কৃতকারী। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, জনগণকেও তাদের প্রতিহত করতে এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি আরও বলেন, সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। জামিনে মুক্ত হয়ে কেউ যদি পুনরায় অপরাধে জড়িত হয়, তাহলে তাদের আবার আইনের আওতায় আনা হবে।

নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, পুলিশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে, চলতি মাসেই তা সম্পন্ন হবে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, “সব বাহিনীর প্রশিক্ষণ শেষ পর্যায়ে আছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

চলমান পরিস্থিতিতে দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ জানিয়েছেন, নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে এবং সব ইউনিট প্রস্তুত রয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ঢাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, “অপরিচিত কাউকে আশ্রয় দেবেন না। মোটরসাইকেল বা যানবাহন ভাড়া দেওয়ার আগে যাচাই করে নিন।” তিনি জানিয়েছেন, গত দুই দিনে রাজধানীতে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণ ও ৯টি যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে; এসব ঘটনায় ১৭টি মামলা করা হয়েছে এবং ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা যথেষ্ট রয়েছে। সব বাহিনীর সমন্বয়ে যে কোনো ধরনের নাশকতা প্রতিহত করা সম্ভব।

সর্বশেষে সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেয় এবং সন্ত্রাস ও নাশকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

ন্যাশনিক্স/এজে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ