আগামী ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ঘোষণা করা ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের শীর্ষ রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে ছাড়াই নির্বাচন আয়োজনের সরকারি প্রস্তুতি এখন উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে শুধু দলের জন্য নয়, প্রশাসনের জন্যও।
৫ আগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। সেই সময় থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতা সহ কয়েক লক্ষ নেতাকর্মী ও প্রায় দুইশত সংসদ সদস্য গ্রেপ্তার হন, এবং নির্বাহী আদেশে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে দলকে বাদ দিয়ে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে রাজনৈতিক মহল জানায়।
কিন্তু দেশের বড় অংশের সাধারণ মানুষ মনে করছেন আওয়ামী লীগ একটি দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ সংগঠন; তাদের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া নির্বাচন হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত বাড়তে পারে। বিশেষ করে গত কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভাঙচুর, মব-কিলিং ও নারী-নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে অস্বস্তি বেড়েছে। এ অবস্থায় অনেকে মনে করেন একটি প্রতিযোগিতামূলক, বহুদলীয় নির্বাচনই দেশের জন্য নিরাপদ সমাধান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যদিও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ায় যাচাই হওয়া জরুরি, তবে দলটিকে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা বিপরীত প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। কারণ দেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বড় সাফল্যগুলোও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হয়েছে যা ভোটারদের একটি বড় অংশ এখনো মনে রেখেছে।
১৩ নভেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীরা নীরবে সাংগঠনিক ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর অন্যদিকে সরকার ও প্রশাসন এই বিষয়ে বাড়তি সতর্ক হচ্ছে।বাড়ছে গ্রেপ্তার আতঙ্ক।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্যে বড় দলগুলোকে বাদ দিয়ে কখনও স্থায়ী সমাধান আসেনি এমন মন্তব্যও উঠে আসছে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজে। যে ভুল-ত্রুটি বা অপব্যবহারের অভিযোগ আছে, তার বিচার হওয়া দরকার কিন্তু একইসঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখাও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে অনেকের মত।
ন্যাশনিক্স একেএ
