বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে থাকছেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত। ভারতের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার সরকারের বিরুদ্ধে আনা ২৩৪ বিলিয়ন ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ ‘পুরোটাই অবিশ্বাস্য ও হাস্যকর’।
ছাত্র-শিক্ষক ও জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগের পর এটি তার প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সরাসরি বক্তব্য। সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি রাজনৈতিক ক্ষেত্র থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্নই আসে না এবং ক্ষমতার পরিবর্তন অবশ্যই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, তার এই মন্তব্য আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের কাছে উৎসাহের বার্তা, যা দলকে পুনরায় সংগঠিত করতে সহায়তা করতে পারে।
দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, কল্পনাপ্রসূত হিসাব তৈরি করে লোক দেখানো অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রচারণা বলে আখ্যা দেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে তিনি বলেন, “এগুলো এতটাই অযৌক্তিক যে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজনও পড়ে না।”
সাক্ষাৎকারে তিনি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রসঙ্গও তোলেন। তার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি থাকার কারণে ড. ইউনূস ‘বিশেষ সুবিধা’ পাচ্ছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত। এই মন্তব্য তার বহু বছরের সমালোচনারই ধারাবাহিকতা।
গণ-আন্দোলনের সময় নিহত ও আহত হওয়ার বিষয়েও শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো দায়িত্বের কথা স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যদিও কোন প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করা হয়েছে, তা নিয়ে রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ নীরবতার পর এই সাক্ষাৎকার বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তার নির্বাচনে ফেরার ঘোষণা এবং অভিযোগের জবাব দেওয়ার ধরন আগামী রাজনৈতিক সংখ্যাতত্ত্ব এবং দলের ভবিষ্যৎ কৌশলে প্রভাব ফেলবে।
ন্যাশনিক্স/একেএ
