বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন জাতিসংঘকে চিঠি পাঠিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, দেশের আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়া একতরফা ও অগণতান্ত্রিক হওয়ার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) পাঠানো চিঠিতে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে জানান, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ ব্যতীত কোনো নির্বাচন গণতান্ত্রিক বা বৈধ হতে পারে না। ড. মোমেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় দেশগুলোর উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে এমন পরিস্থিতি হলে তা জনগণ ও আদালতের মাধ্যমে অবিলম্বে প্রতিহত করা হতো। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “পছন্দের সুযোগ ছাড়া গণতন্ত্র গণতন্ত্র নয়।”
ড. মোমেন জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির সহায়তাপুষ্ট ‘ব্যালট’ (BALLOT) উদ্যোগকেও উল্লেখ করে বলেন, এটি এমন একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সমর্থন করতে পারে, যেখানে দেশের প্রধান দলগুলোর অংশগ্রহণ সীমিত। তিনি উল্লেখ করেছেন, বাদ দেওয়া দলগুলোর জনসমর্থন প্রায় ৬৫–৭০ শতাংশ। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের একতরফা নির্বাচন সমর্থন করলে জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হবে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অর্থায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
চিঠিতে ড. মোমেন ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের উদাহরণ টানেন। তখন মাত্র ১২ দিনের মধ্যে গণরোষের মুখে নির্বাচন ভেঙে পড়েছিল এবং সরকারকে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ইতিহাস কি পুনরাবৃত্তির পথে?” এবং বলেন, সাজানো নির্বাচন দেশের স্থিতিশীলতা নয়, বরং রাজনৈতিক বিভেদ এবং দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা বাড়াবে।
জাতিসংঘের প্রতি ড. মোমেনের আহ্বান স্পষ্ট। তিনি চান:
১. সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং কোনো নিষেধাজ্ঞা না আরোপ করা।
২. অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ।
3. জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো, পূর্বনির্ধারিত ফলাফল নয়।
চিঠির শেষে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আরেকটি রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। এই সময় জাতিসংঘের নীরবতা একটি অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অনুমোদন হিসাবে বিবেচিত হবে।” এই চিঠির একটি কপি ইউএনডিপি প্রশাসক আকিম স্টেইনারকেও দেওয়া হয়েছে।
ড. মোমেনের এই চিঠি এমন সময়ে এসেছে, যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
ন্যাশনিক্স/একেএ
