দেশের রেলস্টেশনগুলোতে নিরাপত্তাহীনতা, সহজ হচ্ছে অ/স্ত্র ও মা/দ/ক পরিবহন

অবশ্যই পরুন

দেশের রেলস্টেশনগুলোতে নিরাপত্তাহীনতা, সহজ হচ্ছে মাদক ও অস্ত্র পরিবহ
দেশের অধিকাংশ রেলস্টেশনেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রায় অনুপস্থিত। লাগেজ স্ক্যানার, স্ক্যানার গেট কিংবা পর্যাপ্ত রেল পুলিশের অভাবে ট্রেনে মাদক, অস্ত্রসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য পরিবহন এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ট্রেন থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের পর বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চল মিলিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে মোট ৫১৫টি স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে ৫১২টি স্টেশনেই নেই লাগেজ স্ক্যানার বা নিরাপত্তা গেট। বর্তমানে চার শতাধিক স্টেশন চালু থাকলেও নিয়মিত স্ক্যানিং কার্যক্রম নেই বললেই চলে। ঢাকা (কমলাপুর), চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার স্টেশনে স্ক্যানার স্থাপন করা হলেও সেগুলো সচল নেই বা ব্যবহার করা হয় না। কক্সবাজারের আইকনিক স্টেশনে স্ক্যানার বসানোর মাত্র দুই ঘণ্টা পরই তা অচল হয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, জনবল সংকট এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে এসব যন্ত্রপাতি নিয়মিত ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অধিকাংশ স্টেশনে নেই নিরাপত্তা বেষ্টনী বা যাত্রীদের তল্লাশির ব্যবস্থা। ফলে ট্রেনে কিংবা স্টেশনে নজরদারি অত্যন্ত সীমিত।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চক্রগুলো বিশেষ করে লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেন ব্যবহার করে মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরক বহন করছে। আন্তনগর ট্রেনেও অপরাধীরা নিষিদ্ধ পণ্য পরিবহন করছে বলে অভিযোগ আছে।

গত রবিবার বিমানবন্দর রেলস্টেশনে বনলতা এক্সপ্রেস থেকে সেনাবাহিনী, রেলওয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে আটটি বিদেশি পিস্তল, ১৬টি ম্যাগাজিন, ২৬টি গুলি, দুই কেজি গানপাউডার ও দুই কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগেও ভৈরব ও কমলাপুর স্টেশনে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ একাধিক চালান আটক করা হয়েছে।

রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনে অবৈধ পণ্য পরিবহন ঠেকাতে বহুবার স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন ও জনবল বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

ঢাকা রেলওয়ে অঞ্চলের পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, “রেলপথে মাদক ও অস্ত্রের চালান নিয়মিত ধরা পড়ছে। কিন্তু সীমিত জনবল নিয়ে ১০টি জেলার রেলস্টেশন ও ট্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।” তিনি জানান, এক বছর আগে ৭০০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়োগ ও দুটি নতুন ফাঁড়ি স্থাপনের প্রস্তাব পাঠানো হলেও এখনো অনুমোদন মেলেনি। বর্তমানে ঢাকা জোনে জনবল রয়েছে মাত্র ৪৫০ জন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৭০ কিলোমিটার রেলপথে ১৫টি স্টেশন রয়েছে, যার মধ্যে দুটি বন্ধ। আধুনিকায়নের পরও এসব স্টেশনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি। রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর জনবল ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক স্টেশনে যাত্রীদের বসার জায়গা দখল করে রাখছে অসামাজিক ও অপরাধীচক্র।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ