কাকন বাহিনীর গুলিতে রক্তাক্ত পদ্মা তীর, কৃষক-জেলে নিরুপায়

অবশ্যই পরুন

পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে এখন ভয় আর আতঙ্কের অন্য নাম রোকনুজ্জামান কাকন, এলাকায় যিনি পরিচিত ‘ইঞ্জিনিয়ার কাকন’ নামে। কুষ্টিয়া, পাবনার ঈশ্বরদী, সুজানগর, নাটোরের লালপুর ও রাজশাহীর বাঘা পর্যন্ত পদ্মার চরাঞ্চলে তাঁর প্রভাব বিস্তৃত। কাকন বাহিনীর ভয়ে নদীতে জেলেরা মাছ ধরতে পারছেন না, কৃষকেরা চাষাবাদ বন্ধ করে দিয়েছেন। চরজুড়ে চলছে গুলি, লুট, বালুমহাল দখল, নির্যাতন ও আধিপত্যের প্রতিযোগিতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কথায় কথায় মানুষ গুলি করে হত্যা করছে কাকনের লোকজন। গত ছয় মাসে ঈশ্বরদী থানায় তাঁর নামে ছয়টি মামলা হয়েছে, লালপুর ও বাঘা থানাতেও রয়েছে একাধিক মামলা।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মাজদিয়া গ্রামের বাসিন্দা কাকন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রয়েছেন ঈশ্বরদীর যুবলীগ নেতা মিলন চৌধুরী, কুষ্টিয়ার কালু ও মুকুল। বাহিনীতে শতাধিক অস্ত্রধারী সদস্য সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। একসময় দক্ষিণাঞ্চলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী সিরাজ সিকদারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। পরবর্তীতে কালু বাহিনীর সঙ্গে আধিপত্য নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে ঈশ্বরদী ও লালপুর অঞ্চলে ঘাঁটি গেড়ে বসেন। ২০০৬ সালে লালচান ও পান্না বাহিনীর মৃত্যুর পর কাকন একক প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। ২০১৯ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের কিছু প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় পদ্মা নদীর বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ নেয় কাকন বাহিনী।

গত কয়েক মাসে কাকন বাহিনীর হাতে ঘটেছে একের পর এক হামলা ও হত্যাকাণ্ড। গত সোমবার রাজশাহীর বাঘায় গুলিতে দুইজন নিহত হন। এর আগে ২৬ মে ঈশ্বরদীর সাঁড়াঘাটে বালুমহাল দখল নিয়ে গুলিতে আহত হন ছয়জন। ২৮ মে কয়েকজন কৃষককে পিটিয়ে গরু ছিনতাই করে চরে জবাই ও ভোজের আয়োজন করে কাকনের লোকজন। ৫ জুন ইসলামপাড়া এলাকায় গুলি চালিয়ে ঘরবাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। ১১ জুন চরে গোলাগুলির সময় কাকন বাহিনীর ছয়জন অস্ত্রসহ ধরা পড়ে। ৬ অক্টোবর তরিয়া মহলে নৌকা ও স্পিডবোট ছিনতাইয়ের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন দুই কৃষক।

ভুক্তভোগী ইজারাদার মেহেদী হাসান জানান, তিনি ৪৭ লাখ টাকায় তরিয়া ঘাট ইজারা নিলেও কাকন বাহিনী ঘাট দখলে নিতে পাঁচবার হামলা চালিয়েছে। কৃষক আবদুল মোত্তালিব বলেন, কাকন বাহিনীর লোকজন নিয়মিত গুলি ছুড়ে ভয় সৃষ্টি করছে, ফলে চাষাবাদ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাকন বাহিনীর শতাধিক সদস্য পদ্মার বিশাল চরে ঘাঁটি গেড়ে আছে এবং নিয়মিত স্পিডবোট ও নৌকা নিয়ে সশস্ত্র মহড়া চালায়। সম্প্রতি ড্রোনে ধারণ করা তাদের মহড়ার ভিডিও প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

পাকশী ফাঁড়ির ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম বলেন, ইজারাদারদের বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষ ঘটেছে, তবে কাকন বাহিনীর ভয়েই কৃষকরা চাষাবাদে যেতে পারছেন না। ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আবদুন নূর জানান, কাকনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো তদন্ত করছে নৌ পুলিশ এবং ইতিমধ্যে বাহিনীর ছয় সদস্যকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, কাকন বাহিনীই সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাঁর অবস্থান ঢাকায় বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে শিগগিরই কাকন বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।

ন্যাশনিক্স/এজে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ