বিদেশিদের বন্দর দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে অনশন

অবশ্যই পরুন

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ চট্টগ্রাম বন্দরের স্থাপনা দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে গণ–অনশন কর্মসূচি পালন করছে শ্রমিক–কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। শনিবার সকাল ৯টা থেকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে শুরু হওয়া এই অনশন চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

সকালে শতাধিক শ্রমিক প্রেসক্লাব চত্বরে জড়ো হয়ে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক সংগঠনের বিভিন্ন নেতা–কর্মী। তাঁরা বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর নিজস্ব সক্ষমতায় সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে, বিদেশি অপারেটরের প্রয়োজন নেই।

স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক রিজওয়ানুর রহমান খান বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর বছরে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা করে। এমন একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। সরকারকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে।”

বক্তারা অভিযোগ করেন, লাভজনক প্রতিষ্ঠান হয়েও নিউমুরিং টার্মিনাল ও লালদিয়া চর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, “চট্টগ্রামের মানুষ কোনোভাবেই এটি মেনে নেবে না। বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া মানে দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে খেলা।”

অনশন কর্মসূচিতে বাম গণতান্ত্রিক জোট চট্টগ্রাম জেলা পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক শফি উদ্দিন কবির বলেন, “পূর্ববর্তী সরকার কাউকে না জানিয়ে বিদেশিদের হাতে বন্দর দেওয়ার চুক্তি করেছিল। বর্তমান সরকারও সেটি পর্যালোচনা না করে বাস্তবায়ন করছে, যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।”

চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালে বিনিয়োগ ও পরিচালনার জন্য বিদেশি অপারেটর নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় মেয়াদে শুরু হওয়া সেই প্রক্রিয়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও এগিয়ে নিচ্ছে।

এর আগে ২২ অক্টোবর ইজারা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে স্কপ। বন্দর এলাকায় মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। সেদিনের কর্মসূচি থেকেই আজকের গণ–অনশনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ২৭ অক্টোবর ঢাকায়ও অনুরূপ বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা।

ন্যাশনিক্স/এপি

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ