গাইবান্ধা জেলায় সম্প্রতি নারী ও শিশু নির্যাতনের একের পর এক ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব অপরাধ দমনে তৎপর থাকলেও, বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন—শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপে নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবণতা রোধে।
সামাজিক অবক্ষয় ও নীরবতা অপরাধ বাড়াচ্ছে
পুলিশের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু সামাজিক জটিলতা ও লজ্জার কারণে অনেক ভুক্তভোগী সময়মতো থানায় না আসায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহে সমস্যা তৈরি হয়। অনেক সময় আবার মামলা পর্যন্ত গড়ায় না বিষয়টি।
সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নৈতিক অবক্ষয় ও পারিবারিক অনুশাসনের ঘাটতি থেকে মানুষ ধীরে ধীরে আইনের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ছে। ফলে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।
এক সপ্তাহে তিনটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে গাইবান্ধা জেলায় তিনটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
৩০ আগস্ট, সাঘাটা উপজেলায় এক নববধূকে বাসরঘরে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়, যা সারাদেশে আলোচনার ঝড় তোলে।
২ আগস্ট, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার পথে অপহৃত হয়ে ধর্ষণের শিকার হয়।
৫ আগস্ট, সপ্তম শ্রেণির আরেক ছাত্রীকে দূর সম্পর্কের আত্মীয় ডেকে নিয়ে গ্রামের বাঁশঝাড়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে কয়েকজন। এছাড়া ২৯ অক্টোবর পলাশবাড়ী উপজেলায় নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে এক পিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়—যা সমাজকে স্তম্ভিত করেছে।
মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বেগ
স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, গাইবান্ধায় ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশিত পরিসংখ্যানের চেয়েও অনেক বেশি। বেশিরভাগ ঘটনা সামাজিক চাপ, ভয় বা সম্মানের ভয়ে প্রকাশ পায় না। এর ফলে অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যায় এবং নতুন করে অপরাধ সংঘটিত করতে উৎসাহ পায়।
সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ নয়—পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা, সচেতনতা এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে।
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজে ন্যায়বোধ ও মানবিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।
