আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও দেখা দিয়েছে ত্রিমুখী অবস্থান। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি তিন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
২০১৪ সালের পর আন্দোলনের মঞ্চে যে ঐক্য ও সহাবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছিল, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের (৫ আগস্ট ২০২৪) পর সেই ঐক্যের জায়গায় এখন জায়গা নিয়েছে ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা।
নির্বাচনে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) পদ্ধতি চালুর দাবিতে জামায়াতের অবস্থানের বিরোধিতা করছে বিএনপি। বিএনপির নেতারা অভিযোগ করছেন, জামায়াতের এই প্রস্তাব নির্বাচনে “দলীয় স্বার্থ রক্ষার একটি কৌশল” মাত্র। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে বিএনপিকে “চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দখলদার রাজনীতির ধারক” বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এনসিপি দাবি করেছে জুলাই সনদ ইস্যুতে জামায়াত তাদের সঙ্গে “রাজনৈতিক প্রতারণা” করেছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য ক্ষোভ ও বাকযুদ্ধ চলছে। সম্প্রতি জামায়াতের সেক্রেটারি একরকম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “বাপের সাথে পাল্লা দিও না”, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ড. ইউনূসের রাজনৈতিক কৌশলেও প্রভাব ফেলছে। এক পর্যায়ে তিনি কখনো বিএনপি, কখনো জামায়াত, আবার কখনো এনসিপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন যা পর্যবেক্ষকদের মতে “একটি টালমাটাল ও অস্থিতিশীল রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত।”
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা গণতান্ত্রিক সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে তা দৃশ্যমান হচ্ছে না। বরং বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে এখন “স্বৈরাচারী মনোভাব” বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর চলছে ব্যাপক নির্যাতন, গুম, খুন ও হয়রানির অভিযোগ। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, খুন-রাহাজানি ও সরকারি পদে দলীয় নিয়োগ বাণিজ্যের প্রবণতা বাড়ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে নির্বাচনের পরিবেশ আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
ন্যাশনিক্স/একেএ
