গোলাম আযমকে স্যান্ডেলের আঘাত, বায়তুল মোকাররমের ইতিহাস

অবশ্যই পরুন

১৯৮১ সালের ১ জানুয়ারি দুপুরে ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে এক জনসমাগমের দৃশ্যে ঘটে যায় এমন এক ঘটনা যা পরবর্তী দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্মৃতিতে ঘৃণা ও প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। ফিলিস্তিনে নিহত দুই বাংলাদেশির জানাজা শেষ হতেই জনরোষ ম্লান হয়নি; বরং সেখান থেকে বেরিয়ে আসে এক স্পষ্ট বার্তা স্বাধীনতাবিরোধীর প্রতি জনগণের রোষ।

জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন ছাত্র শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। সেই জনসমুদ্রে গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন আসন্ন বিতর্কিত রাজনৈতিক নেতা গোলাম আযম। ঠিক সেই মুহূর্তে, একজন প্রায় ৩৬ বছর বয়সী যুবক তার দিকে এগিয়ে এসে ডান হাতে ধরা পায়ের স্যান্ডেল তুলে পরপর দুটি আঘাত করে প্রথমটি কপালে, পরেরটি চোয়ালে। তৎক্ষণাৎ সময় থমকে যায়। অপরিষ্কার রূপে হলেও সেদিনের সে জুতাপেটা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে জনমানসিক প্রতিরোধের এক জীবন্ত চিত্র হয়ে ওঠে।

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় জানা গেছে, সেদিন দুপুর ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ঘটনা ঘটে। মসজিদের দক্ষিণ গেইট তখনো নির্মিত হয়নি; সিঁড়ির কিছু গজ দূরে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দুটি গাড়ি রাস্তার পাশ ঘেঁষে থামলে তার একটির মধ্য থেকে বেরিয়ে আসেন গোলাম আযম। তিনি স্বাধীনতার আগে দেশত্যাগ করেছিলেন, ১৯৭৮ সালে দেশে ফিরলেও সেটাই ছিল তার প্রথম প্রকাশ্য অনুষ্ঠান উপস্থিতি। অনেকের চোখে সেটাই ছিল টেস্ট কেইস সমাজ কীভাবে গ্রহণ করবে এমন ব্যক্তিকে?

তবে এ ঘটনা শুধু দ্রুত ঘটে যাওয়া এক আক্রমণ ছিল না; এরপরের সময়ের জন্য এটি হয়ে ওঠে প্রতীক। একাধিক ছাত্র সংগঠন বিবৃতি দেয়, সংবাদপত্রের কলামগুলো এই ঘটনার প্রতিধ্বনি তুলে ধরে। সেই দিন তথ্য প্রকাশ করছিলেন একজন তরুণ সাংবাদিক, পরবর্তীতে দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান। তাঁর মতে, “কয়েকদিন ধরে সংবাদপত্রে এ খবর ছিল” এবং সেই সময় গণমাধ্যম সেটিকে গুরুত্ব সহকারে নেয়।

গোলাম আযম ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির একজন শীর্ষ নেতা, যিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিচারপ্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয় এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালের রায়ে ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই তাকে দোষী ঘোষণা করা হয় ও ৯০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। গোলাম আযম বিচারিক প্রক্রিয়ায় দণ্ডিত হওয়ার পর ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা যান।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ