আবারও রাজপথে: সুসংগঠিত হয়ে ফিরছে আওয়ামী লীগ

অবশ্যই পরুন

দীর্ঘ দমন পীড়ন, গ্রেপ্তার ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও আবারও রাজপথে ফিরছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দলটির নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেন। নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাহসিকতার সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেন, যা দলের প্রতি তৃণমূলের আনুগত্য ও পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজধানীর ১১টি স্থানে ঝটিকা মিছিল হয়েছে এবং পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৩১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, কয়েকটি স্থানে মিছিলের সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান এসব মিছিল ছিল সংক্ষিপ্ত, শান্তিপূর্ণ এবং সংগঠিত। কোনো কোনো মিছিলে ৫ থেকে ৩০ জন পর্যন্ত অংশ নেন।

অন্তর্বর্তী সরকার গত জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সহিংস ঘটনার দায়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তারও আগে গত বছরের অক্টোবরে নিষিদ্ধ হয় দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। তবুও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির নেতাকর্মীরা এখনো সক্রিয়। বায়তুল মোকাররম, মতিঝিল, পল্টন, মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই ছোট ছোট দলবদ্ধ মিছিল বের হয়। বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে মো. ওয়াসিম ও মো. ফয়সাল নামের দুজনকে এবং রাজউক ভবনের গলিতে মো. কায়েস হাসান নামের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শত বাধা, মামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্যেও আওয়ামী লীগের এই প্রত্যাবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দলটি আবারও সাংগঠনিকভাবে শক্তি সঞ্চয় করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, মামলা ও হয়রানির মধ্যেও দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নতুন উদ্যমে সংগঠন পুনর্গঠনের কাজে নেমেছেন। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, হাজারো নেতা–কর্মী কারাগারে, তবুও তারা রাজনীতি ছাড়েননি বরং তৃণমূল পর্যায়ে গোপনে সভা, আলোচনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি করের চাপ, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরক্তি বাড়ছে। জনগণের একাংশের মধ্যে এখন আবারও আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতি ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই মনে করছেন, দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী দলকেই আবার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরতে হবে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক তাহমীদ জানান: আওয়ামী লীগ এক ইতিহাস,শেখ হাসিনা এক অদম্য অনুপ্রেরণা। যারা ভেবেছেন গ্রেপ্তারে, জবরদস্তিতে আমাদের থামানো যাবে তারা ভুল করছেন। লক্ষ নেতাকর্মী কারাবন্দী থাকা সত্ত্বেও আন্দোলন চলছে, চলবেই কারণ আমাদের শক্তি জনতার মধ্যে।আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী; আমরা শেখ হাসিনার কর্মী; আমরা ফিরে আনব আমাদের নেত্রীকে ইনশাআল্লাহ।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে দেশের রাজনীতিতে আবারও আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের সময় ঘনিয়ে আসছে। দলের নেতা কর্মীদের মাঠে সক্রিয়তা এবং জনগণের ক্রমবর্ধমান সহানুভূতি প্রমাণ করছে নিষেধাজ্ঞা, মামলা বা গ্রেপ্তার দিয়ে আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহাসিক দলকে দমন করা সম্ভব নয়।

ন‍্যাশনিক্স/একেএ

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ