চলতি বছরের ১০ মাসে দেশের বাজারে বোতলজাত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম চারবার কমে বেড়েছে পাঁচবার। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সর্বনিম্ন ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। সর্বোচ্চ ওঠে ১ হাজার ৯৪০ টাকা পর্যন্ত।
১০ মাসে সর্বনিম্ন ও দামের সর্বোচ্চ ব্যবধান ছিল ৬৩৪ টাকা। জানুয়ারির তুলনায় অক্টোবরে দাম বাড়তি ৫৩১ টাকা বা প্রায় ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র দেখা যায়।
বিইআরসির তথ্য বলছে, বছরের শুরুর মাস জানুয়ারিতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা ৫০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা হয়। মার্চে কিছুটা কমে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৩৪১ টাকা। এরপর এপ্রিল থেকে বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি শুরু হয়। ওই মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৭২৮ টাকা।
মে মাসে দাম আরও ২১২ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা হয়, যা চলতি বছরের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নির্ধারিত দাম। অর্থাৎ, জানুয়ারির তুলনায় মে মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম বেড়েছিল ৬৩৪ টাকা বা প্রায় ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
তবে মে মাসের পর থেকে টানা কয়েক মাসে দাম কমতে থাকে। জুনে ৫৫ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৮৫ টাকা। জুলাইয়ে বড় ধরনের পতন হয়ে দাম ৩৫৭ টাকা কমে ১ হাজার ৫২৮ টাকায় নেমে আসে। আগস্টে আবার ৭০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা এবং সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এরপর অক্টোবর মাসে আবার এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হলো। চলতি মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সঙ্গে সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরের দাম ২৫২ টাকা বেশি এবং জুলাইয়ের সবশেষ বড় দরপতনের পর মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৩০৯ টাকা।
দাম ওঠা-নামার হিসাব বলছে, বছরের প্রথম তিন মাসে এলপিজির দাম মোটামুটি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকার মধ্যে ছিল। কিন্তু এপ্রিল ও মে মাসে টানা দুই দফা বড় মূল্যবৃদ্ধিতে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। মাত্র দুই মাসে জানুয়ারির তুলনায় দাম ৬৩৪ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়।
এরপর জুন ও জুলাইয়ে দাম কমলেও আগস্ট থেকে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। বিশেষ করে অক্টোবরের ২৫২ টাকা বৃদ্ধির কারণে বছরের শুরুতে যে তুলনামূলক কম দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছিল, তার সঙ্গে বর্তমান দামের বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের এলপিজি দামের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো দ্রুত ওঠা-নামা। মে মাসে ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে জুলাইয়ে দাম নেমে আসে ১ হাজার ৫২৮ টাকায়। অর্থাৎ, মাত্র দুই মাসে ৪১২ টাকা বা প্রায় ২১ দশমিক ২ শতাংশ কমে যায়।
কিন্তু জুলাইয়ের পর পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। আগস্ট ও অক্টোবরে দুই দফা বৃদ্ধির ফলে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫২৮ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ তিন মাসে দাম বেড়েছে ৩০৯ টাকা বা প্রায় ২০ দশমিক ২ শতাংশ।
এলপিজির বড় ধরনের মূল্য পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাসাবাড়ির রান্নার খরচে। বিশেষ করে যেসব পরিবার পাইপলাইনের গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না পাওয়ায় নিয়মিত বোতলজাত এলপিজির ওপর নির্ভরশীল, তাদের মাসিক ব্যয়ে এর প্রভাব আরও বেশি। আবার সরকার নির্ধারিত যে দাম, সে দামে প্রায় কখনোই বাজারে এলপিজি মেলে না। গ্রাহককে এক-দুইশ টাকা বেশি দিয়েই কিনতে হয়। রোববার (৪ অক্টোবর) দাম বাড়ানোর আগ পর্যন্ত বাজারে ১২ কেজির এলপিজি কোথাও কোথাও ২ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যায়। এই দামেও বাজারে মিলছিল না গ্যাস।
অক্টোবরে ১২ কেজি এলপিজির নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। জানুয়ারিতে এই দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। অর্থাৎ, ১০ মাসে দাম বেড়েছে ৫৩১ টাকা। শতাংশের হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ।
চলতি বছরের সর্বোচ্চ দাম মে মাসের ১ হাজার ৯৪০ টাকা। সেই দামের তুলনায় অক্টোবরে দাম ১০৩ টাকা কম। তবে জুলাইয়ের সর্বনিম্ন ১ হাজার ৫২৮ টাকার তুলনায় অক্টোবরের দাম ৩০৯ টাকা বেশি।
অর্থাৎ, বছরের শুরুতে এলপিজির দাম তুলনামূলক কম থাকলেও এপ্রিল-মে মাসে বড় উল্লম্ফন, জুন-জুলাইয়ে পতন এবং আগস্ট-অক্টোবরে আবার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার মধ্য দিয়ে ভোক্তাদের জন্য দামের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
