শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ, তাঁর বাবা-মায়ের থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রংপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এসব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য জেলা প্রশাসককে নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকা তরুণ ও ছাত্র-জনতার জন্য অনুপ্রেরণার। উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলা দূর করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, স্বাস্থ্য কার্ড, খাল খনন, কর্মসংস্থান ও খেলাধুলার উন্নয়নসহ বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী চার বছরে প্রায় দুই কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। কৃষকদের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিবেচনা করে কার্ড দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জন্য তদবিরের প্রয়োজন হবে না।
ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সম্মানীর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাসের প্রথম সপ্তাহে মোবাইল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্মানীর অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালুর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। এর মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন কারণে তেল-গ্যাসের বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিরোধীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে না। সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে তা সংসদে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নে সময় দেওয়ার কথাও বলেন।
এ ছাড়া রংপুর স্টেডিয়ামের নাম শহীদ আবু সাঈদের নামে করার আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নাম ইতোমধ্যে ‘শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম’ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ন্যাশনিক্স/এলকে
