গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’কে প্রায় ১৫ ঘণ্টা পরও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরের বাইমাইল এলাকায় শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে পুলিশের গাড়ি থেকে নামেন রাজা। এরপর দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি। সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও কারাগার সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ জন আসামিকে ঢাকা মহানগর আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাঁদের কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় বাইমাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বাকি ২৯ আসামিকে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হয়।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১-এর জেলার জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাজা একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় কারাগারে ছিলেন। আদালত থেকে ফেরার পথে থানা-পুলিশের হেফাজত থেকে তিনি পালিয়ে যান।
কোনাবাড়ী থানার ওসি ইফতেখার হোসেন বলেন, পালিয়ে যাওয়া আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁর বিষয়ে কারাগার থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এদিকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত ব্যক্তিরা হলেন এসআই (এবি) প্রবীর কুমার, কনস্টেবল জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন।
ঘটনাটি তদন্তে গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার জাহিদ হোসেন ভূঁইয়াকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
জিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান জানান, পালিয়ে যাওয়া আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান কমিটি কাজ করছে।
রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’কে চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
