মানবাধিকার সুরক্ষায় বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

অবশ্যই পরুন

বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিএনপি সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)।

২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বাংলাদেশে পাস হওয়া তিনটি আইন মানবাধিকার সুরক্ষায় আগের কিছু সংস্কারকে পিছিয়ে দিয়েছে। HRW-এর মতে, এসব আইনের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও তদন্তের ক্ষমতা কমানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহির ক্ষেত্রেও সুরক্ষা দুর্বল হয়েছে। 

সংস্থাটির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা দিয়েছিল। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার সেই ব্যবস্থাকে কার্যকর না রেখে নতুন আইনে কমিশনের সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা সীমিত করেছে। একই সঙ্গে কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রভাব বাড়ানো এবং এর বাজেট ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা কমানোর বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে HRW। 

এ ছাড়া ৬ সেপ্টেম্বর পাস হওয়া Enforced Disappearance Prevention and Redress Act-এ গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে আগের ব্যবস্থার পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। HRW বলছে, নতুন ব্যবস্থায় অভিযোগে অভিযুক্ত সংস্থার পরিবর্তে অন্য কোনো নিরাপত্তা সংস্থা তদন্ত করবে, কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদন্তের সুযোগ রাখা হয়নি। 

১০ সেপ্টেম্বর সংসদে পাস হওয়া Special Response Battalion Act-এর মাধ্যমে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB)-এর নাম পরিবর্তন করে Special Response Battalion (SRB) করা হয়েছে। HRW-এর ভাষ্য, নাম পরিবর্তন হলেও বাহিনীর জনবল, ক্ষমতা ও সম্পদ নতুন বাহিনীতে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত তদারকি ও জবাবদিহির সুরক্ষা রাখা হয়নি। 

HRW-এর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসার পর নতুন সরকারের দ্রুত এমন পদক্ষেপ নেওয়া উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্বাধীন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান এবং প্রকৃত নিরাপত্তা খাত সংস্কার প্রয়োজন। 

তবে এগুলো হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মূল্যায়ন ও অভিযোগ; সরকারের অবস্থান বা সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর পক্ষে সরকারের বিস্তারিত বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ