শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও দৃঢ়তার সুদিন ফেরাতে মরিয়া এদেশের খেটে খাওয়া মানুষ: আদনান ওয়ালিদ রাতুল

অবশ্যই পরুন

আওয়ামী লীগের মিছিলের লোক সংখ্যা নিয়ে যারা হিসাব কষেন, তারা আসলে গণমানুষের সাগরের গভীরতা মাপতে পারেন না। মাত্র একশ-দেড়শ নেতাকর্মীর একটি ছোট স্ফুলিঙ্গ যখন দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে রাজপথে নেমে আসে, আর তার পেছনে এসে আছড়ে পড়ে আট থেকে দশ হাজার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের এক জলোচ্ছ্বাস তখন সেই দৃশ্যকে শুধু একটি রাজনৈতিক মিছিল বলা চলে না; ওটা হলো বঞ্চিত মানুষের বুক চাপা ক্ষোভের এক বিস্ফোরণ, ইতিহাসের চাকা পেছনে ঘোরানোর চক্রান্তের বিরুদ্ধে গণ আদালতের প্রথম রায়।

আজকের এই বাংলাদেশ, যেখানে সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে মানুষের মৌলিক অধিকার গুলো এক গভীর অনিশ্চয়তার ঘূর্ণাবর্তে নিক্ষিপ্ত, সেখানে গুলশান-বনানীর ভিআইপি এলাকা বা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা-১৭ আসনের অভিজাত রাজপথ প্রমাণ করে দিল যে রাজনীতি ড্রয়িংরুমে বসে চলে না।

তথাকথিত বুদ্ধিজীবী আর টকশোর পণ্ডিতেরা হয়তো খসড়া সংবিধান কিংবা অন্তর্বর্তীকালীন বন্দোবস্তের সুদিন গুনেছেন নিজেদের, কিন্তু রিকশাওয়ালা, ভ্যানচালক, দিনমজুর, ফুটপাতের বিক্রেতা – এই চাষা-ভূষা সাধারণ মানুষেরা গত দুই বছরে হাড়ে হাড়ে বুঝে গেছে রাষ্ট্র পরিচালনার মানে কী আর শূন্যতা কাকে বলে। যাদের ঘামে এই দেশ বাঁচে, তারা আজ টের পাচ্ছে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বের কী ভীষণ অভাব এই ভূখণ্ডে।

প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা, এই অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক বন্দোবস্তের মাত্র ছয়-সাত মাস যেতে না যেতেই রাজপথের এই জনস্রোত সঙ্কেত দিচ্ছে এক স্পষ্ট অনাস্থার।

বাতাসেই আজ ধ্বনিত হচ্ছে শেখ হাসিনার নাম। কেন এই ব্যাকুলতা? কারণ মানুষ দেখেছে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে রাষ্ট্রকে কোথায় টেনে তুলেছিলেন তিনি। রাষ্ট্র পরিচালনা কেবল কিছু উচ্চকণ্ঠ বুলি বা বিদেশি প্রভুদের প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়ন নয়। রাষ্ট্র পরিচালনা হলো মাটি ও মানুষের নাড়ি চেনার ক্ষমতা।

শেখ হাসিনা সেই ক্ষমতা জানতেন, সেই আসনের মান ও মর্যাদাকে তিনি বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। আজ যখন সেই আসন শূন্য কিংবা ম্লান, তখন সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে পুতুল নাচানোর থিয়েটার দিয়ে দেশ চলে না, দেশ চালাতে হলে বুকের ভেতর জোনাকির আলো নয়, সূর্যের তেজ থাকতে হয়।

আজকের ওই কথিত ৩০ সেকেন্ডের মিছিল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ইতিহাসের এক অনিবার্য বাঁক। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলেই মানুষের মন জয় করা যায় না, তা যদি যেত তবে এই আট-দশ হাজার খেটে খাওয়া মানুষ নিজের তাগিদে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা লাঠিপেটার ঝুঁকি নিয়ে আওয়ামী লীগের সেই ছোট্ট মিছিলের পেছনে নিজেদের অজস্র স্রোত এনে মেশাতো না। তারা প্রমাণ করে দিয়েছে, এই দেশের মাটি থেকে মুজিবের আদর্শ আর হাসিনার রাষ্ট্রভাবনা মুছে ফেলা অত সহজ নয়।

ওই ৩০ সেকেন্ডের মিছিল আসলে আগামীদিনের এক দীর্ঘ ঝড়ের পূর্বাভাস। যে ঝড়ে তাসের ঘরের মতো উড়ে যাবে সমস্ত হঠকারিতা, আর সাধারণ মানুষের সম্মিলিত কণ্ঠস্বরে আবার মুখরিত হবে বাংলার আকাশ-বাতাস। অপেক্ষা ডিসেম্বরের কিন্তু ততদিন এই বাংলার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ধৈর্য্য ধরতে পারবে তো?

লেখক- আদনান ওয়ালিদ রাতুল, কলামিস্ট

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ