আদানির ১৪.৮৬, চীনের বিদ্যুৎ ২৫ টাকা! জনগণের ঘাড়ে বাড়তি বোঝা কেন?

অবশ্যই পরুন

দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে, তখন চীন থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনার খবরে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বাংলাদেশ চীন থেকে প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দরে বিদ্যুৎ কিনবে। চীনের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এই ঘোষণার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে যেখানে দেশের বিদ্যুৎ খাত ইতোমধ্যে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ কেনার কারণে চাপে রয়েছে, সেখানে আরও বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?

বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের আদানি পাওয়ারের কাছ থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি করে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, আদানির বিদ্যুতের গড় ব্যয় প্রায় ১৪ টাকা ৮৬ পয়সা প্রতি ইউনিট, যার মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ ও অন্যান্য ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত।

সেই তুলনায় চীন থেকে প্রস্তাবিত ২৫ টাকা ইউনিট দাম প্রায় ১০ টাকা ১৪ পয়সা বেশি। অর্থাৎ ২৫ টাকা দরের বিদ্যুৎ আদানির ১৪.৮৬ টাকা দরের তুলনায় প্রায় ৬৮ শতাংশ বেশি।

তবে দুই প্রকল্পের প্রযুক্তি, জ্বালানি উৎস, উৎপাদনক্ষমতা, চুক্তির মেয়াদ, ক্যাপাসিটি চার্জ এবং অন্যান্য ব্যয়ের কাঠামো এক নয়। ফলে শুধু ইউনিট দামের ভিত্তিতে দুটি চুক্তিকে সরাসরি সমানভাবে তুলনা করাও পুরোপুরি যথাযথ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য পুরো চুক্তির আর্থিক কাঠামো, সরকারি ভর্তুকি, পরিবহন ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি দায়ও প্রকাশ করা প্রয়োজন।

এর মধ্যেই আদানি চুক্তি নিয়ে সরকারের জাতীয় পর্যালোচনা কমিটিও অতিরিক্ত ব্যয় ও চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে চীনা প্রকল্পকে শুধু বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি হিসেবে নয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি চীনা প্রকল্পের কথাও সামনে এসেছে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

তবুও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে বিদ্যুতের উৎপাদন ও ক্রয়মূল্য শেষ পর্যন্ত যদি এত বেশি হয়, তাহলে সেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ কি আবারও ভোক্তার বিদ্যুৎ বিলের ওপর গিয়ে পড়বে?

এমনিতেই বিদ্যুতের বিল নিয়ে মানুষের অভিযোগ ও ক্ষোভ রয়েছে। তার মধ্যে ২৫ টাকা ইউনিটে বিদ্যুৎ কেনার ঘোষণা নতুন করে সেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জনগণের প্রশ্ন, দেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার কি সত্যিই সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর পথ বেছে নিচ্ছে, নাকি কোনো বিশেষ পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে রাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়ের মধ্যে ফেলা হচ্ছে?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন একটাই ২৫ টাকা ইউনিটে কেনা বিদ্যুতের প্রকৃত খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করবে? সরকার, নাকি সেই খরচের বোঝা গিয়ে পড়বে সাধারণ গ্রাহকের কাঁধে?

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ